গাজীপুরের দাইপাড়া এলাকার বাড়িঘরের চালে কুঁড়ার স্তূপ জমেছে। ২৪ ঘণ্টার ঘরের জানলা-দরজা বন্ধ রাখেন লোকজন। তারপরও কুঁড়া পড়ছে খাবারে। কুঁড়ার আস্তর পড়ে বর্ণ হারিয়েছে গাছপালা, লতাপাতা। দিনরাত চিড়ার মিল থেকে উড়ে আসা কুঁড়ার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তা দাইপাড়া এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে গিয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। এ বিষয়ে দাইপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, ‘হাজী নূরুল হুদার চিড়ার মিল থেকে দিনরাত ধানের কুঁড়া উড়ে উড়ে আসছে। গত সাত মাস যাবত কুঁড়া উড়ে এসে ঘরের চাল, গাছপালা বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। নারিকেল গাছ মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিভিন্ন গাছে ফল ধরাও বন্ধ। সারাদিন ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে থাকতে হয়। কুঁড়ার কারণে শোবার ঘরেই খাবার রান্না করতে হচ্ছে।’
কৃষক ঈমান আলী হাজী বলেন, চিড়ার মালিককে নানা অসুবিধার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি কথা কানে তোলেননি। চিমনি ছাড়া উম্মুক্তভাবে কুঁড়া উড়িয়ে চিড়ার মিল পরিচালনা করছেন তিনি।
গৃহবধূ আকলিমা আক্তার বলেন, শোবার ঘরে চুলা নিয়ে রান্না-বান্না করতে হয়। পরিবারের সব সদস্যদের হাঁচি-কাশি লেগেই থাকে। এ দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। জালাল উদ্দিন নামে আরেকজন বলেন, চিড়ার মিলের আশপাশের এলাকার লোকজন শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
একই এলাকার আইনুদ্দীন বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করে চিড়ার মিলের মালিক আশপাশের বাসিন্দাদের উচ্ছেদে বাধ্য করছেন।
সাহাজ উদ্দিন বলেন, চিড়ার মিল মালিকের কাছে এলাকাবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে তেলিহাটী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন জানান, এলাকাবাসীর কাছ থেকে চিড়ার মিল মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। পরিবেশ স্বাভাবিক করতে সব মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
চিড়া মিল মালিক হাজী নূরুল হুদা বলেন, ‘পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নিয়েই মিল পরিচালনা করছি। মিলের চারপাশে আমারই জায়গা। বেশি বাতাস থাকলে কিছু কুঁড়া উড়ে যেতে পারে। তবে অভিযোগকারীদের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট কোনও ভিত্তি নেই।’
/এসটি/








