নরসিংদীর রায়পুরা থানায় বশির উদ্দিন নামে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবলকে নির্যাতনের অভিযোগে ওসি ও দুই উপ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার কনস্টেবল বশির উদ্দিন বাদী হয়ে নরসিংদী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনেভেস্টিগেশন পিবিআই’কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. আশিকুর রহমান কাশেম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় রায়পুরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মজিবর রহমান ও উপ পরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হককে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, কনস্টেবল বশির উদ্দিনের ছোট তিন ভাই নাসির উদ্দিন, জামাল উদ্দিন ও রিয়াজ উদ্দিনের মালয়েশিয়ায় আল ফাতেক নামে একটি মিনি মার্কেটসহ একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ৪০ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে ফারুক, জাহিদ ও কবির নামে তিন বাংলাদেশি আল ফাতেক মিনি মার্কেটের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতো। কয়েক বছর ধরে ওই তিন কর্মচারী মার্কেটের সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে ক্যাশ থেকে টাকা চুরি করে আসছিল। চুরির ঘটনা টের পেয়ে মালিক নাসির উদ্দিন সম্প্রতি তাদের আটক করেন। এ সময় সেখানকার স্থানীয়দের উপস্থিতিতে অভিযুক্তরা মোট ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা চুরির কথা স্বীকার করে। চুরির টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে তখন ঘটনাটি সমঝোতা করা হয়। পরে অভিযুক্তরা বাংলাদেশ থেকে নিজ নিজ অভিভাবকদের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবলকে টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করে। পরে অভিযুক্ত ফারুক ও জাহিদ টাকা না দিয়ে মালয়েশিয়া থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে অভিযুক্ত ফারুকের বড় ভাই আ. হাসিম (বাংলাদেশস্থ) অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল বশির উদ্দিনকে ডেকে নিয়ে আলোচনা করে টাকা দুই দফায় টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রায়পুরা থানার মরজাল নামক স্থানে ডেকে নিয়ে টাকা না দিয়ে উল্টো দুর্ব্যবহার করে। কনস্টেবল বশির উদ্দিন অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে রায়পুরা থানা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এ ঘটনা ওসি আজহারুল ইসলাম সরকারকে জানালে তিনি তাদের ডেকে থানায় নিয়ে যান। এরপর গভীর রাতে ওসি আজহারুল ইসলাম সরকার কনস্টেবল বশির উদ্দিনকে জানান, ৫ লাখ টাকা ঘুষ দিলে অভিযুক্তদের আটক করে সমুদয় পাওনা টাকা আদায় করে দেওয়া হবে। বশির উদ্দিন এতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ প্রতিপক্ষ (অভিযুক্ত) আ. হাসিমের সঙ্গে যোগসাজশ করে উল্টো বশির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর পায়তারা শুরু করে। এসব ঘটনা টের পেয়ে কনস্টেবল বশির উদ্দিন তাকে থানায় বসিয়ে রাখার কারণ জানতে চান ওসি আজহারুল ইসলাম সরকারের কাছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কনস্টেবল বশির উদ্দিনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। ছয়দিন জেল খাটার পর জামিনে মুক্তি পান কনস্টেবল বশির উদ্দিন। পরে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে অভিযুক্ত তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
/এমডিপি/








