লাভজনক হওয়ায় নরসিংদী জেলাজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নদীর পানিতে ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ। মেঘনার শাখা ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদসহ বিভিন্ন বিলের পানিতে এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ করছেন চাষিরা। এতে একদিকে যেমন উৎপাদিত হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু মাছ, পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে অনেকের।
জেলা মৎস্য বিভাগ ও মাছ চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নরসিংদী জেলাজুড়ে নদীর পানিতে ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন মাছ চাষিরা। নদীর পানিতে লোহার পাইপ, বাঁশ, ড্রাম ও চারদিকে জাল দিয়ে তৈরি করা হয় এই ভাসমান খাঁচা। নরসিংদীর মেঘনার শাখা নদী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদসহ বিভিন্ন বিলের পানিতে এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ করছেন চাষিরা।
নরসিংদী জেলা মৎস্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী জেলায় সাড়ে ৮০০ খাঁচায় মাছ চাষ করা হয়। মৎস্য চাষিদের দেওয়া তথ্যমতে জেলায় দেড় সহস্রাধিক খাঁচায় মাছ চাষ হচ্ছে। তুলনামূলক খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় এই পদ্ধতিতে তেলাপিয়া, পাবদা, পাঙ্গাস, রুইসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ চাষ করা যায়। পুকুরে চাষ করা মাছের চেয়ে স্বাদ ভালো হওয়ায় এই পদ্ধতিতে চাষ করা মাছের চাহিদা রয়েছে বাজারে। সরাসরি খাঁচা থেকেই এসব মাছ কিনে নিয়ে যান পাইকাররা।
এ পদ্ধতিতে প্রবাহমান পানিতে মাছ চাষের ফলে জলাশয়ের সঠিক ব্যবহার সুনিশ্চিত হচ্ছে। তবে শিল্পকারখানার বর্জ্যে মেঘনা নদীর পানি দূষণ, মাছের খাবারের মূল্য বৃদ্ধি ও পূঁজির অভাব এই পদ্ধতিতে মাছ চাষের কিছুটা সমস্যা হয় বলে জানান চাষিরা।
মেঘনা নদীতে খাচাঁয় মৎস্য চাষি সুরুজ মিয়া বলেন, পুকুরের তুলনায় খাঁচায় মাছ চাষ অনেকটা লাভজনক। মাছের স্বাদ থাকা ও দুর্গন্ধহীন হওয়ার কারণে বাজারে এসব মাছের চাহিদাও বেশি। সরাসরি খাঁচা থেকেই মাছ বিক্রি করা যায়।
একই এলাকার অপর চাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় করে খাঁচায় তেলাপিয়া মাছ চাষ করছি। প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা লাভ করতে পারি। শিল্পবর্জ্যে মাছ চাষে ব্যাঘাত ঘটছে বলেও জানান তিনি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তোফাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘খাঁচায় মাছ চাষ বৃদ্ধি করে মাছের চাহিদা পূরণের জন্য মৎস্য চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ঋণ সহায়তা দেওয়া গেলে নদ-নদীর প্রবাহমান পানি কাজে লাগিয়ে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষে রূপালি বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।’
/এআর/







