গাজীপুরের শ্রীপুরে আওয়ামী লীগ নেতা মাহতাব উদ্দিনের মুক্তির দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে অবরোধ করা হয়। এ সময় মাওনা চৌরাস্তার মোহা সিএনজি স্টেশনের সামনে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন দলের নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসী। পরে পুলিশের আশ্বাসে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে দুশ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে সড়ক অবরোধের ঘটনায় শ্রীপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমানসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত মাহতাব উদ্দিন শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ ও শ্রীপুর পৌর মেয়র আনিছুর রহমানের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী ছিলেন। ডিবি পুলিশের দাবি তাকে দুশ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।
শ্রীপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুরের ডিবি পুলিশ মাহতাব উদ্দিনকে তার বাড়ি চন্নাপাড়া থেকে মাদকের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। একই সময়ে গাজীপুর জেলা পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মুলাইদ গ্রামের লিয়াকত ফকিরকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। খবর পেয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাওনা চৌরাস্তায় জড়ো হয়। পরে লিয়াকত ফকিরকে মাওনা চৌরাস্তায় ছেড়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনার পর মাহতাব উদ্দিনের মুক্তির দাবিতে নেতাকর্মীরা মাওনা চৌরাস্তা মোহা সিএনজি স্টেশনের সামনে মহাসড়কে অবরোধ তৈরি করে। মাহতাব উদ্দিনের নিঃশর্ত মুক্তির আশ্বাস দেওয়া হলে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, অবরোধে সড়কের চারটি লেনের উভয়মুখী যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় গাজীপুর জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য আবুল খায়ের বিএসসি, মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমীর হামজা, গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের প্রাক্তন সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির হিমু, যুবলীগ নেতা নূরে আলম মোল্লা, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রিপন ওই নেতার মুক্তির দাবিতে মহাসড়কে পথসভায় বক্তব্য দেন। রাজনৈতিক নেতাকর্মী ছাড়াও আশপাশের এলাকার নারী পুরুষসহ বিপুল সংখ্যক লোকজন অবরোধে অংশ নেয়।
গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ জানান, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচনে মাহতাব উদ্দিন তার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। জেলা আওয়ামী লীগের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সদস্য পদে তার নাম রয়েছে। মাহতাব মাদক বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়।
তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘কেউ প্রমাণ দেখাতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা পুলিশের একটা বাণিজ্য। এর আগে জানুয়ারি মাসেও ব্যবসায়ী আবুল কালামের মুড়ির কারখানায় সার মেশানোর অভিযোগ এনে গোয়েন্দা পুলিশ ঘুষ দাবি করে। ঘুষের টাকা না দেওয়ায় কয়েকজনকে আটকের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় তখন চার পুলিশও প্রত্যাহার করা হয়।’
গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন জানান, মাহতাব এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে। তাকে রাত আড়াইটার দিকে এলাকা থেকে দুশ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মাহতাব উদ্দিন ছাড়া অন্য কাউকে ছেড়ে দেওয়া বা আটকের ঘটনা ঘটেনি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, বুধবার রাতে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ শ্রীপুরের বাসা থেকে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মাহতাব উদ্দিনকে আটক করে নিয়েছে এমন খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা দিকে থেকে এলাকাবাসী লাঠি-সোটা হাতে নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ, টায়ারে অগ্নিসংযোগ ও অবরোধ সৃষ্টি করে। এতে ওই মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জেলা ও হাইওয়ে পুলিশের অনুরোধে নেতাকর্মীরা সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অবরোধ তুলে নিয়েছেন। সড়ক অবরোধের ঘটনায় শ্রীপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান, আওয়ামী লীগ কর্মী আব্দুল লতিফ, আইয়ুব হোসেন ভূইয়াসহ সাতজনকে আটক করা হয়েছে।
/বিএল/








