বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার জুলিয়া নিবলেট বুধবার গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। বাঁকা পা নিয়ে জন্ম নেওয়া বা মুগুর পা (ক্লাবফুট) শিশুদের চিকিৎসা কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে তিনি ক্লিনিকটি পরিদর্শন করেন।
এ সময় তিনি ক্লিনিকের চিকিৎসা কার্যক্রম ও সাফল্য দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রকল্পের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য তিনি শহীদ তাজ উদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, প্রিন্সিপাল, উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালকসহ ‘ওয়াক ফর লাইফ’ টিম মেম্বারদের ধন্যবাদ জানান।
ওয়াক ফর লাইফ প্রকল্পটি দি গ্লেনকো ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অংশীদারিত্বমূলক একটি প্রকল্প। অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের অর্থায়নে এ প্রকল্পটি ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। এ পর্যন্ত সমগ্র বাংলাদেশে ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্পটি ১৯ হাজারেরও বেশি মুগুর পা বা ক্লাবফুট-শিশুকে তাদের ক্লিনিকে চিকিৎসার আওতাভুক্ত করেছে। ২০১০ সালের ১৫ এপ্রিল প্রকল্পটির মাধ্যমে শহীদ তাজ উদ্দীন আহমেদ মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালে ‘ওয়াক ফর লাইফ’ ক্লিনিকের কার্যক্রম শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৫৩৪ জন ক্লাবফুট-শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে ।
পরিদর্শনকালে জুলিয়া নিবলেটের সঙ্গে তার স্বামী ড. পিটার শ্যানন, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের পাবলিক ডিপ্লোমেসি অফিসার ফাইরুজ নিগার অদিতি, শহীদ তাজ উদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সৈয়দ হাবিবুল্লাহ, প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. আসাদ হোসেন, উপ-পরিচালক ডা. আলী হায়দার খান, সহকারী পরিচালক ডা. কমর উদ্দীন, বিএমএ গাজীপুরের সভাপতি ডা. আমির হোসেন রাহাত, ডা. ওয়াকিল আহমেদ, ‘ওয়াক ফর লাইফ’ এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম খান এবং ক্লিনিক ম্যানেজার ও পনসেটি চিকিৎসক মো. জামিল হোসেন, দি গ্লেনকো ফাউন্ডেশন (ওয়াক ফর লাইফ) এর প্রতিষ্ঠাতা কলিন ম্যাকফারলেন উপস্থিত ছিলেন।
‘ওয়াক ফর লাইফ’ ক্লিনিকের ম্যানেজার জামিল হোসেন জানান, এ ক্লিনিকে গাজীপুর ও আশপাশের এলাকা থেকে আগত ক্লাবফুট-শিশুদেরকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ রোগে আক্রান্ত তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রতি বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চিকিৎসা দেন।
তিনি জানান, প্রতি বছর বাংলাদেশে আনুমানিক সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার শিশু ক্লাবফুট নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এটি একটি শারীরিক সমস্যা যেখানে বাচ্চার পায়ের পাতা ভেতরের দিকে বাঁকানো থাকে। এর চিকিৎসা সময়মত না করালে এটি সারা জীবনের জন্য বিকলাঙ্গতা বা পঙ্গুত্ব বয়ে নিয়ে আসে।
তিনি আরও জানান, গত বছরের ১৯ নভেম্বর ভারতের নয়াদিল্লীতে এক অনুষ্ঠানে ‘দি গ্লেনকো ফাউন্ডেশন’ তাদের ‘জাতীয় ক্লাবফুট চিকিৎসা কার্যক্রম’ (ওয়াক ফর লাইফ) সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও ক্লাবফুট চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ-সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের পদক লাভ করে।
/বিএল/








