নরসিংদীতে মাহফুজ সরকার (২৩) নামে এক কলেজ ছাত্রকে হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করে রেখে দেওয়া হয় বাসার ডিপ ফ্রিজে। একদিন পর লাশের টুকরোগুলো ব্যাগে ভরে ফেলে দেওয়া হয় মেঘনা নদীতে। মঙ্গলবার (৬ জুন) নরসিংদীর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম ফেরদৌস ওয়াহিদের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানান গ্রেফতারকৃত আসামি রাবেয়া আক্তার।
গত ২৬ মে শহরের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত মাহফুজ নরসিংদী শহরের বানিয়াছল এলাকার আবদুল হান্নান সরকারের ছেলে ও নরসিংদী সরকারি কলেজের বিএ (পাস) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
অভিযুক্ত রাবেয়া ইসলাম রাবুর জবানবন্দি অনুযায়ী, তিনি নরসিংদী শহরের রাঙ্গামাটিয়া মহল্লার শাহালম মোল্লার মালিকানাধীন বাড়ির ৫ তলায় ভাড়া থাকতেন। কলেজ ছাত্র মাহফুজ এই নারীর পূর্ব পরিচিত। সে সূত্রেই রাবেয়ার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল মাহফুজের। এ সুযোগে সম্প্রতি রাবেয়া ইসলামের ছোট ছেলেকে মাহফুজ বলাৎকার করে। এই ক্ষোভে মাহফুজকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রাবেয়া।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৬ মে শুক্রবার রাঙ্গামাটিয়া মহল্লার ভাড়া করা বাসায় ডেকে নেওয়া হয় মাহফুজকে। পরে রাবেয়া তার ভাতিজা শাহাদতের সহযোগিতায় ছুরি দিয়ে তাকে হত্যা করে লাশ কয়েক টুকরো করেন। পরে টুকরো করা লাশ বাজারের ব্যাগে ভরে বাসার ডিপ ফ্রিজে রেখে দেয়। পরদিন ২৭ মে শনিবার নরসিংদী বাজার থেকে ট্রাভেল ব্যাগ কিনে এনে লাশের টুকরোগুলো সেটার মধ্যে ভরা হয়। পরে সেই ব্যাগ নরসিংদী থানা ঘাট থেকে ট্রলারে করে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার বাঞ্ছারামপুরের মরিচাকান্দি যাওয়ার পথে মেঘনা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ সূত্র থেকে জানা গেছে, গত ২৬ মে শুক্রবার দুপুরে নরসিংদী বাজারে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয় মাহফুজ। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে পরদিন নরসিংদী সদর মডেল একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর ২৯ মে মাহফুজের মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে পরিবারের কাছ থেকে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়, যা বিকাশের মাধ্যমে পরিবারের লোকজন পরিশোধও করেন।
মুক্তিপণ দেওয়ার পরও কোন সুরাহা না হওয়ায় ৩০ মে মাহফুজের বাবা অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর মাহফুজের মোবাইল ট্র্যাকিং করে রাবেয়াকে তার রাঙ্গামাটিয়া মহল্লার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাবেয়া মাহফুজ হত্যার ঘটনা স্বীকার করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নরসিংদী সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক নূরে আলম বলেন, ‘রাবেয়া নরসিংদী শহরের ইনডেক্স প্লাজায় টেইলার্সের দোকানে কাজ করতো। সে বাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার মাঝিহারা এলাকার আল মামুনের স্ত্রী। সে মাহফুজকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।’
/এআর/এফএস/








