গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মাদিগাতি এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের পাঁচ জনসহ ছয় জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ১৫ জন বাসযাত্রী। বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাশিয়ানী উপজেলার মাঝিগাতিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আলী নূর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন- সৌদি প্রবাসী হালিম আকন, তার স্ত্রী আসমা বানু, ছেলে সিহাব ও সুজন, শ্যালক বাদল হাওলাদার এবং মাইক্রোবাসের চালক (অজ্ঞাত)। এদের সবার বাড়ি বাগেরহাট জেলার শরণখোলায়।
ওসি আলী নূর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঢাকাগামী সেবা গ্রিন লাইনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি মাইক্রোবাসকে নিয়ে মহাসড়কের খাদে পড়ে যায়। বাসের নিচে চাপা পড়ে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে মুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের পাঁচজনসহ ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৫ বাসযাত্রী।’
খবর পেয়ে গোপালগঞ্জ ও মুকসুদপুর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ এবং স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত আটজনকে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, আমাদের বাগেরহাট প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সৌদি আরব থেকে নিজের বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার চালিতাবুনিয়ায় ফিরছিলেন হালিম আকন। কিন্তু মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি আর ফিরতে পারলেন না বাড়িতে। একই পরিবারের পাঁচ জন নিহত হওয়ায় চালিতাবুনিয়া গ্রামে চলছে শোকের মাতম।
নিহতের বড় ভাই মতিয়ার রহমান আকন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার ভাই হালিম আকন দীর্ঘদিন ধরে সৌদিতে থাকে। ঈদের ছুটিতে সে বাড়িতে আসছিল। বিমানবন্দর থেকে তাকে আনার জন্য তার স্ত্রী, তার দুই ছেলে ও শ্যালক ঢাকা যায়। কিন্তু তাদের কেউই আর বাড়িতে ফিরতে পারল না।’
সাউথখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেন, ‘দুর্ঘটনায় আকন বাড়ির পাঁচ জন একইসঙ্গে মারা যাওয়ায় গোটা এলাকাতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় স্বজন হারানোদের সমবেদনা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই।’
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল হাওলাদার জানান, দুর্ঘটনা ঘটেছে গোপালগঞ্জে। তাই সেখানকার সদর হাসপাতালেই ময়নাতদন্ত হবে। এরপর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
আরও পড়ুন-
মহাসড়কে চালকদের প্রাণঘাতী প্রতিযোগিতা
নয় জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২৩ জনের
/এআর/বিএল/টিআর/








