গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী নয়াপড়া এলাকায় মাল্টিফ্যাব লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ তে দাঁড়িয়েছে। বিস্ফোরণে হতাহতদের অধিকাংশই বয়লার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামানি এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, সোমবার (৩ জুলাই) রাত ১২টা পর্যন্ত গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ৮টি লাশ পৌঁছানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ জুলাই) ভোরে একটি এবং সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আরও একটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া সোমবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সোলাইমান (৩০) নামে আরও একজন মারা গেছেন। তিনি বগুড়ার গাবতলী থানার মরিয়া গ্রামের মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১১।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার প্রণয় ভূষণ দাস জানান, নিহতদের মধ্যে সোলাইমান ছাড়াও অন্য ৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- মাগুরার শালিখা থানার গোবরা গ্রামের আইয়ুর আলী সরদারের ছেলে কারখানার ফায়ারম্যান আল আমিন হোসেন (৪০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা গ্রামের সাগর আলী মীরের ছেলে কারখানার সহকারী প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান (৫০), রাজবাড়ির গোয়ালন্দ থানার চরকাসনন্দ গ্রামের মনিন্দ্র নাথের ছেলে বিপ্লব চন্দ্র শীল (৩৬), বগুড়ার সোনাতলা থানার নামাজখালি গ্রামের শাহার আলীর ছেলে কারখানার বয়লার অপারেটর মাহবুবুর রহমান (২৫), চট্টগ্রামের মীরসরাই থানার ববনসুন্দর গ্রামের কারখানার বয়লার ইনচার্জ আব্দুস ছালাম (৩২), চাঁদপুরের সদরের মদনা গ্রামের বাচ্চু ছৈয়ালের ছেলে গিয়াস উদ্দিন ছৈয়াল (৩০)। এ ছাড়া আরও দুইজনের নাম পাওয়া গেছে। এরা হলেন এরশাদ ও মনসুর। তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।
গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদ হাসান জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত শনাক্তকৃত ছয়জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোনাবাড়ী শরীফ জেনারেল হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক ডা. খান মো. শরীফ জানান, আহতদের মধ্যে তার হাসপাতালে ৩৫ জন এবং কোনাবাড়ি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ১৬ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চার তলা বিশিষ্ট মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড ওই কারখানা ভবনের নিচ তলায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসময় পুরো ভবন কেঁপে ওঠে এবং ভবনের নিচ তলা ও দ্বিতীয় তলার বেশ কিছু অংশ ধসে পড়ে। বিস্ফোরণে ৯ কর্মী নিহত হন। এর মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বিস্ফোরণে আহত একজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার সকালে উদ্ধার কাজ শুরু হলে আরও দুইজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শতাধিক কর্মী আহত হন।
/এআর/








