রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুই নারী ও এক শিশু নিহত হয়েছে। তাদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। এসময় আহত হয়েছেন ১২ জন বাস যাত্রী। রবিবার (৯ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার মকবুলের দোকান এলাকায় দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে ৮ জনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। এরা হলেন- রাজবাড়ী জেলা সদরের মাটিপাড়া এলাকার তপন (৩০), তৌফিক (২৫), কাজীকান্দা এলাকার আপন (৬০), ফরিদপুর জেলার কানাইপুরের রফিক (১৭), যশোর জেলার মুদার হোসেন (৪০), সমীর (২৮), হায়দার (৪০) ও মাধব (৪০)।
আহতদের মধ্যে একজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ১১ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী দোকানদার রজব আলি জানান, খুলনা থেকে ঢাকাগামী সোহাগ পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব- ১৪-৭৮৭৭) বাসটি মকবুলের দোকান এলাকায় এলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো-ট- ১৪-৪৫১২) সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় ট্রাকটি সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে।এছাড়া বাসের সঙ্গে ট্রাকের পেছনে থাকা সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ডভ্যানের (ঢাকা মেট্রো-উ- ১৪-০২৬৬) সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের যাত্রী দুই নারী ও এক শিশু মারা যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) শাহিদা পারভীন জানান, আহতদের মধ্যে ১১ জনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়েছে। তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। বাকি একজনকে এখানে ভর্তি করা হয়েছে।
আহলাদিপুর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুজিবর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা স্পিড ব্রেকারের দাবিতে দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবোরধ করে রাখেন। এসময় মহাসড়কের দুইপাশে যাহবানের দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মীর্জা আবুল কালাম আজাদ জানান, দুর্ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আহলাদীপুর হাইওয়ে থানা ও গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ সদস্যরা কাজ করছে।নিহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।মৃতদেহগুলোর সুরতহাল রিপার্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
/এআর/








