ডিএনডির জলাবদ্ধতা দ্রুত ও স্থায়ীভাবে নিরসনের দাবিতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের অভিমুখে মিছিল ও স্মারকলিপি দিয়েছে কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা। এসময় খাল-জলাশয় দখলমুক্ত করা, নষ্ট পাম্প মেরামতসহ পর্যাপ্ত পাম্পের ব্যবস্থা করে পানি নিষ্কাশন করা, পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ ও রাস্তাঘাট সংস্কার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে একনেকে পাশ হওয়া প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি তোলা হয়।
সোমবার (১৭ জুলাই) দুপুরে নগরীর চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অভিমুখে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার হাতে স্মারকলিপি পেশন করেন তারা। কর্মসূচিতে জালকুড়ি, কোতালেরবাগ, দক্ষিণ সস্তাপুর, বুড়িরদোকান, ইসদাইর, গাবতলী, সেয়াচর, রসুলপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগীরা এতে অংশ নেয়।
স্মারকলিপি দেওয়ার আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সিপিবি সভাপতি হাফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, কমিউনিস্ট পার্টির জেলার সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, বাসদ জেলা ফোরামের সদস্য আবু নাঈম খান বিপ্লব, সিপিবি নেতা বিমল কান্তি দাস, ইকবাল হোসেন, বাসদ নেতা সেলিম মাহমুদ, এস এম কাদির।
সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম, ন্যাপ জেলার সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা হিমাংশু সাহা, গণসংহতি আন্দোলনের জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘প্রতি বছর ডিএনডির বাঁধের ভেতর বসবাসকারী প্রায় ২০ লক্ষাধিক মানুষ সামান্য বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহায়। এই এলাকায় ঢাকা সিটি করপোরেশন (দক্ষিণ), নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অংশ ও একাধিক ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এখানে রয়েছে রফতানিমুখী গার্মেন্টসসহ বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান, স্কুল ও কলেজ। বাঁধের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জায়গায় ৩/৪ ফুট পর্যন্ত জলাবদ্ধতা থাকায় কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে, রাস্তা-ঘাট ডুবে থাকায় জনসাধারণের চলাচলে মারাত্মক সংকট হচ্ছে।’
নেতারা বলেন, ইরি ধান চাষের জন্য ৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি নিয়ে স্বাধীনতার আগে ডিএনডি বাঁধ তৈরি করা হয়। ৩২ দশমিক ৮ কিলোমিটার বাঁধের অভ্যন্তরে ৫৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা বর্তমানে ২০ লক্ষাধিক মানুষের আবাসিক ও শিল্প এলাকায় পরিণত হয়েছে। যখন সেচ প্রকল্প ছিল তখন পানি প্রবাহের জন্য কংস নদ, নলখালী খালের মত ৯টি জলাশয় এবং আরও ৯টি শাখা খাল ছিল। এছাড়াও আরও ২১০টি আউটলেট, ১০টি নিষ্কাশন খাল ছিল। কিন্তু প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় খাল দখল-ভরাট করে স্থাপনা নির্মিত হওয়ায় পানি প্রবাহের মাধ্যমগুলো বিলুপ্ত হয়েছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতে হাঁটু পানিতে ঘর-বাড়ি ও রাস্তা-ঘাট ডুবে যায়। বেশি বৃষ্টিতে তৈরি হয় বন্যা। পানি নিষ্কাশনের জন্য শিমরাইলে ৫১ বছর আগে স্থাপিত পাম্পগুলো পুরনো হয়ে গেছে। সেগুলো আগের মতো পানি নিস্কাশন করতে পারছে না।’
নেতারা আরও বলেন, ‘২০১৬ সালে ডিএনডি বাঁধ এলাকার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতার সমস্যার স্থায়ী সমাধানে একনেকের বৈঠকে ৫৫৮ কোটি ২০ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়। কিন্তু তা বাস্তবায়নের কাজ এখনও শুরুই হয়নি।’ অবিলম্বে ডিএনডি এলাকার পানি নিষ্কাশনে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী করেন। অন্যথায় সমস্ত এলাকাবাসিকে সঙ্গে নিয়ে সমস্ত বাম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দেন।
/এআর/








