উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সাতদিনের মধ্যে প্রত্যাহার না হলে ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে ‘প্রতিবাদের নাম জাহাঙ্গীরনগর’ এর ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে তিনদিন ধরে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সম্মানজনক সমাধানের আশ্বাস দিয়ে অনশন ভাঙায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবারের সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি ইমরান নাদিম বলেন, ‘মামলা প্রত্যাহারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে আগামী সাতদিনের মধ্যে তার বাস্তবায়ন দেখতে চাই। এর ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।’
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে মাঝরাতে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে যে ন্যাক্কারজনক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে তা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। যে শিক্ষকদের মানবতার দীক্ষা দেওয়ার কথা তারা আজ শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন।’
ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সহ-সভাপতি অলিউর রহমান সানের সঞ্চালনায় ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনিছা পারভীন জলি বলেন, ‘অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে না এসে তাদের বিরুদ্ধে মিছিল করে কিছু শিক্ষক যে প্রতিহিংসা পরায়ণতা দেখিয়েছেন তাতে বিস্মিত হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে আশ্বাস দিয়েছে আমরা তাতে বিশ্বাস রাখতে চাই।’
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চের অন্যতম মুখপাত্র নাসিম আখতার হোসাইন বলেন, ‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা অনশনে বসেছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সাত দিন সময় দিয়েছে। এর মধ্যে মামলা প্রত্যাহারে যেসব উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন তা করুন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তদন্ত কমিটির সদস্য যদি শিক্ষার্থীদের শাস্তি চাওয়ার মিছিলে অংশগ্রহণ করে তবে সেই কমিটি কখনোই নিরপেক্ষ হতে পারে না।’
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড.সাঈদ ফেরদৌস, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক সুস্মিতা মরিয়ম, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তৌহিদ হাসান শুভ্র প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে দুপুর সাড়ে ১২টায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিভিন্ন বিভাগের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। মিছিলটি নতুন কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবন এবং প্রশাসনিক ভবন ঘুরে ফের শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়।
/বিএল/








