ফেসবুকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে ‘আপত্তিকর’ ট্রল বানানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সোহায়েলকে আহ্বায়ক করে একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিভাগটির বিভিন্ন ব্যাচের ৮২ জন শিক্ষার্থীকে চিঠির মাধ্যমে তদন্ত কমিটিতে ডাকা হয়েছে।
চিঠিতে জানানো হয়, ‘BGEians Democrat’ নামের একটি পেইজে বিভাগীয় বিভিন্ন বিষয়ে অশালীন, অসম্মানজনক, আপত্তিকর ট্রলিং এবং মন্তব্য প্রকাশ পাওয়ায় বিভাগের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। এই পেইজে শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্টতা থাকায় অধিকতর তদন্তের জন্য তাদের ডাকা হয়েছে।
এদিকে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে ২০১২-১৩ এবং ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ৩, ৭ ও ৮ আগস্টের পূর্বনির্ধারিত চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করেছে বিভাগটি।
বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে বিভাগটির কয়েকজন শিক্ষার্থী ‘BGEians Democrat’’ নামে ওই ফেসবুক পেইজটি খোলেন। শিক্ষকদের আচরণ, পড়ানোর ভঙ্গি, সান্ধ্যকালীন কোর্স, বিভাগীয় নানা বিষয় নিয়ে বিদ্রুপাত্মক লেখা, ছবি পোস্ট করতেন পেইজটির পরিচালক শিক্ষার্থীরা । সেসব পোস্টে শিক্ষকদের সরাসরি পরিচয় না থাকলেও ইঙ্গিত থাকায় শুধু শিক্ষার্থীরাই সেগুলো বুঝতেন। পেইজে বিভাগের শিক্ষকদের রেস্ট্রিক্টেড করা রাখা হয়। ফলে তারা পেইজে প্রকাশিত পোস্টসমূহ দেখতে পারতেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গত ৩১ আগস্ট বিভাগের প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থীকে বিভাগ থেকে ডাকা হয়। সেদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তাদের বিভাগে রেখে নানা ধরণের প্রশ্ন করেন শিক্ষকরা। এসময় তাদের গালিগালাজ করা হয়। শিক্ষকরা পেইজটির এডমিন দুই থেকে তিনজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্ট ঘেঁটে দেখেন। কয়েকজন শিক্ষার্থীর পরিবারকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়। শিক্ষার্থীরা ওই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থণা করলেও এর কোনও সুরাহা হয়নি।
বর্তমানে পেইজটি বন্ধ রয়েছে। যারা পোস্টগুলোতে রিঅ্যাক্ট, কমেন্ট করতেন তাদেরকেও তদন্ত কমিটিতে ডাকা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক মো. শরিফ হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সোহায়েল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদেরকে এখনও শোকজ করা হয়নি। যেহেতু বিষয়টি বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেহেতু অভ্যন্তরীণভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। বিভাগ গঠিত তদন্ত কমিটি শিক্ষার্থীদেরকে ডাকা হয়েছে।’
/এআর/এফএস/
আরও পড়ুন- ‘সিদ্দিকুরের চোখে কে টিয়ারশেল মেরেছে সেটা বের করা কি অসম্ভব’








