গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও দুই কন্সটেবলসহ এক মোটরসাইকেল চোরকে এলাকাবাসীর গণধোলাইয়ের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। অপরদিকে, মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় এক পোল্ট্রি ব্যবসায়ী পৃথক অপর একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশি হয়রানির ভয়ে গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার ঘটনায় পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধরের অপরাধে কাপাসিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিতাই চন্দ্র দাস বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বুধবার (২ আগস্ট) মামলায় স্থানীয় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জনকে আসামি করে এ মামলা (নং-৩) দায়ের করা হয়েছে।
অপরদিকে, মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪ জনকে আসামি করে মোটরসাইকেলের মালিক পোল্ট্রি ব্যবসায়ী মোমেন বাদী হয়ে অপর একটি মামলা (নং-২) দায়ের করেছে। মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক যুবককে ঘটনার সময় গ্রেফতার করা গেলেও বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উভয় মামলায় কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান খান ও এলাকাবাসী জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া ইউনুছ মার্কেট এলাকায় একটি পোল্ট্রি খামারের সামনে মোটরসাইকেল রেখে ওই খামারের কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন খামারের ভেতরে যায়। এসময় তিন যুবক একটি মোটরসাইকেলে করে সেখানে এসে মোমিনের মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যেতে থাকে। টের পেয়ে মোমিন এক যুবককে সঙ্গে নিয়ে চোরদের ধাওয়া করে। তারা দূর্গাপুর এলাকায় চোর দলের সদস্য জাহিদ হাসান শামিমকে (২৭) একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করে। তবে অপর দুই চোর শামিমের মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মোটরসাইকেল চোর দলের সদস্য সন্দেহে আটক যুবককে গণধোলাই দিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে আটকে রাখে। এলাকাবাসী সহযোগীদের কাছ থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আটক শামিমকে চাপ সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে কাপাসিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক যুবককে উদ্ধার করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত এলাকাবাসী বাধা দেয়। এসময় দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে এলাকাবাসী পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে কাপাসিয়া থানার এসআই নিতাই চন্দ্র দাস, কনস্টেবল সুব্রত মণ্ডল এবং মোস্তাফিজুর রহমান আহত হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক যুবক পুলিশের কাছে মোটরসাইকেল চুরির কথা স্বীকার করেছে। এসময় সে পুলিশকে জানায়, পালিয়ে যাওয়া যুবক দুজনের বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকায়।
এলাকাবাসী আরও জানায়, গত কয়েকদিনে এলাকায় একাধিক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবারও মোটর সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটলে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে উঠে। মোটরসাইকেল চুরির জের ধরে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদেরকে গণধোলাই এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পুলিশি হয়রানির ভয়ে এলাকার অধিকাংশ পুরুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
/এআর/








