বর্ষাকালে রাজধানীতে নৌকা না চললেও ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জেই নৌকা চলছে। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে হওয়া টানা বৃষ্টিতে সেখানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ফলে এখানকার বেশ কয়েকটি এলাকায় লোকজন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। রাস্তাঘাটও তলিয়ে আছে। পানিবন্দি থাকলেও নিত্য প্রয়োজনে তো বাইরে বের হতে হচ্ছে লোকজনকে। পানি জমে থাকা এবং রাস্তা ভাঙা থাকায় দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া চায় রিকশাওয়ালা। এছাড়া রিকশা-ভ্যান পাওয়াও যায় না। তাই ভরসা নৌকা। বর্ষার শুরু থেকেই তারা এভাবে চলাচল করছে।
বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকে বেশ কয়েক দফা ভারি ও টানা বর্ষণের কারণে ডিএনডির অভ্যন্তরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, টানা বৃষ্টি হলেও রাজধানীতে দুই-এক দিনের মধ্যেই পানি নেমে যায়। কিন্তু ডিএনডি এলাকা পানি নামে না। মাসের পর মাস পানি আটকে থাকে। ডিএনডির এই জলাবদ্ধতা এলাকাবাসীর জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড়, মৌচাক, নিমাই কাশারি লন্ডন মার্কেট, উত্তর সানারপাড়, পশ্চিম সানারপাড়,মধ্য সানারপাড়,ডেমরার ডগাইর,কোনবাড়ি, সারুলিয়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকার কয়েশ হাজার পরিবার গত দুই মাস ধরে পানিবন্দি।
সরেজমিন ঘুরে দেখে গেছে,সানারপাড় এলাকার নিশি গার্মেসের সামনে থেকে রওশন আরা উচ্চ বিদ্যালয়,মধ্য সানারপাড়,লন্ডন মার্কেট পর্যন্ত নৌকা চলছে। প্রতি নৌকায় পাঁচ থেকে ছয়জন করে লোক নিয়ে যাতায়াত করছে। জনপ্রতি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা। নিশি গার্মেন্ট থেকে লন্ডন মার্কেট ১৫ টাকা। আর তার থেকে দূরের কোনও মহল্লায় গেলে ২০-৩০ টাকা।
নিমাই কাশারি এলাকার সামসুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১০-১২ দিন ধরে এই এলাকার বেশিরভাগ রাস্তাঘাটই দুই থেকে আড়াইফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে। পানি জমে থাকায় রাস্তা ভেঙে গেছে। যে কারণে রিকশাসহ অন্যান যানবাহন চলাচল করতে পারে না। বাধ্য হয়ে নৌকাই এখন চলাচলের মাধ্যম হয়ে উঠেছে।’
মধ্য সানারপাড় এলাকার রাসেল আহমেদ বলেন,‘শুষ্ক মৌসুমে এই রাস্তা দিয়ে বাড়ি যেতে রিকশা ভাড়া ৮-১০ টাকা লাগে। কিন্তু পানির কারণে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার পাশে হওয়ার পরও এই জায়গায় নৌকা করে চলাচল করতে হচ্ছে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের কোনও ব্যবস্থা হচ্ছে না। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমেই জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’
১৯৬৮ সালে ইরিগেশনের জন্য সাড়ে ছয় হাজার হেক্টর জমি নিয়ে গড়ে তোলা হয় ডিএনসি সেচ প্রকল্প। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ১৯৮৮ ও ৯৮ সালে ডিএনডি প্রজেক্ট বন্যামুক্ত থাকায় ৯০ দশকে বাড়ি ঘর ও শিল্প কারখানা নির্মাণ শুরু। বর্তমানে ইরিগেশন প্রজেক্ট সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় এটি একটি অপরিকল্পিত আবাসিক ও শিল্পাঞ্চলে পরিণত হয়েছে।
ডিএনডির পানি নিষ্কাশন খাল ও ক্যানেল দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বাড়ি ঘর ও শিল্প কারখানা। অনেক জায়গা ও জলাশয় লিজ নিয়ে কালভার্ট না করে মাটি ফেলে রাস্তা করায় ক্যানেলের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে পানি শিমরাইল পাম্প হাউসে যেতে পারছে না। আবার পানি নিষ্কাশনের যেসব সরু ক্যানেল বা খাল রয়েছে সেগুলো ময়লা আবর্জনা ও পলিথিন ফেলে বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে তিন-চারদিন ভারি বৃষ্টি হলেই ডিএনডিতে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পয়নিষ্কাশনের পানির সঙ্গে শিল্প কারখানার কেমিক্যালের বর্জ্য মিশ্রিত বিষাক্ত পানি মিলে পুরো ডিএনডির পানি এখন বিষাক্ত। এই বিষাক্ত পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করায় ডিএনডি বাসির হাতে পায়ে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা চরর্ম রোগসহ পেটের পীড়া।
সিদ্ধিরগঞ্জের পাম্প হাউসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তাহের জানান, ভারি বর্ষণের কারণে ডিএনডির ভেতরে পানি বিপদ সীমার উপরে রয়েছে। ময়লা-আর্বজনা পলিথিন কারণে পানি পম্প হাউসে আসতে পারছে না। আগামী এক সপ্তাহ পাম্পগুলো ঠিক মতো চললে পানি নিয়ন্ত্রণে আসবে।
/এসটি/








