নরসিংদীতে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। দেশীয় খাবার খাইয়ে পালন করা হচ্ছে এসব গরু। দেশের বাইরে থেকে অবৈধ পথে গরু আমদানি না হলে ঈদে লাভবান হওয়ার আশা করছেন খামারিরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ঈদকে সামনে রেখে নরসিংদী জেলায় ছোট বড় ১৫ হাজার ৫৭৫ জন খামারি পশু মোটাতাজা করছেন।
সরেজমিন বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, আসন্ন কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রতি বছরের মতো এবারও গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন নরসিংদী জেলার খামারিরা। ৬ থেকে ৮ মাস আগে খামারিরা বিভিন্ন হাট ঘুরে ঋণের টাকায় গরু কিনে লালনপালন শুরু করেন। খামারের পাশাপাশি লাভের আশায় পারিবারিকভাবেও অনেক কৃষক গরু মোটাতাজা করছেন। এসব গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে দেশীয় খাবার খৈল, কুড়া, চালের খুদ, ছোলা, সয়াবিন, ভুষি, কাঁচা ঘাস ও খড় খাইয়ে। যেকোনও মুহূর্তে গরু মারা যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় ও সচেতনতাবোধ থেকে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক কোনও ওষুধ গরুকে খাওয়াচ্ছেন না খামারিরা।
স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে দেশীয় পদ্ধতিতে পালন করা এসব গরু। দেশীয় খাবার খাওয়ানো ও ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ না করায় বাজারে এসব গরুর চাহিদা থাকে বেশি। এতে লাভবান হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী খামারিরা। তবে ভারত ও মিয়ানমার থেকে অবৈধ পথে গরু আমদানি হলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
শিবপুর উপজেলার শালুরদিয়া গ্রামের খামারি মোফাজ্জল মোল্লা বলেন, ‘চার মাস আগে প্রতি গরু গড়ে নূন্যতম ৬৫ হাজার টাকায় মোট ৯টি গরু কিনে লালনপালন করছি। ঈদ পর্যন্ত গরু প্রতি ২০ হাজার টাকা খরচ হবে। বাজার দর ভাল হলে লাভবান হতে পারবো।’
একই উপজেলার মুন্সেফের চর এলাকার খামারি কিবরিয়া গাজী বলেন, ‘গত বছর দেশের বাইরের গরু আসায় হঠাৎ করে বাজার মন্দা হয়ে যাওয়ায় তিন লাখ টাকা লোকসান গুনেছি। এ বছর ৭০টি গরু পালন করছি। পশু খাদ্যের দাম খুবই বাড়তি হওয়ায় খরচ বাড়ছে। এরপরও অবৈধ পথে গরু আমদানি না হলে লাভবান হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।’
অপর খামারি খোরশেদ আলম শিকদার বলেন, ‘ঋণের টাকায় গরু কিনে ৭/৮ মাস লালনপালনের পর লোকসান গুনে আমরা হতাশ হই। এ বছর অবৈধ পথে গরু আমদানি বন্ধে সরকার আন্তরিক হবে বলে প্রত্যাশা করছি।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস ছামাদ মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঈদকে সামনে রেখে পশু মোটাতাজাকরণে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার যাতে না হয় সে বিষয়ে খামারিদের সচেতন ও তদারকি করা হচ্ছে। কোরবানির হাটে দেশীয় পদ্ধতিতে পালন করা গরুর চাহিদা থাকায় খামারিরা লাভবান হবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
এ বছর জেলার ছোট-বড় ১৫ হাজার ৫৭৫ জন খামারি ৪৬ হাজার ৮৫০টি পশু মোটাতাজা করছেন। এরমধ্যে ২৬ হাজার ৩০০ গরু, ১৯ হাজার ৫০০ ছাগল ও ভেড়া এবং ১ হাজার ৫০টি মহিষ রয়েছে বলে জানান তিনি।
/বিএল/








