তিন দিনে পদ্মা কেড়ে নিয়েছে ৩শ’ পরিবারের ঘর

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
১৯ আগস্ট ২০১৭, ১৯:৪৮আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৭, ২১:১৯

ভাঙনে শরীয়তপুরের ঘরবাড়ি, গাছপালা চলে যাচ্ছে পদ্মাগর্ভে, ছবি- প্রতিনিধি টানা বর্ষণে পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় শরীয়তপুরের পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বসতভিটাসহ ফসলি জমি নদীর্গভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় গত তিন দিনে প্রায় তিন শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে গত দুই মাসে গৃহহীন হলো দুই হাজার ৭শ' পরিবার।
স্থানীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রেগুলো থেকে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে শরীয়তপুরের পদ্মা তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভাঙন শুরু হয়। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে নদীতে পানি ও স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা ভয়াবহ রূপ নেয়।

পদ্মায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে, পাকা রাস্তা, গাছপালা, ছবি- প্রতিনিধি কান্দি, চর নড়িয়া, চর জাজিরা, ওয়াপদা ও সাহেব আলি বেপারির কান্দি এবং জাজিরা উপজেলার কাইউম খাঁর কান্দি, কলমিরচর ও কালু বেপারির কান্দি গ্রামে তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনে ফসলি জমি, বসতভিটা, পাকা সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বসতভিটা হারিয়ে গত তিন দিনে এসব গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া নড়িয়ার ওয়াপদা ও সুরেশ্বর বাজার, জাজিরার কাইউম খাঁর বাজার এবং ভেদরগঞ্জের স্টেশন বাজারের শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পূর্বনড়িয়া গ্রামের ব্যবসায়ী মনছুর ছৈয়াল বলেন, ‘নিজের সঞ্চয়, ব্যাংক-লোন ও আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার-দেনা করে একটি ইটভাটা করেছিলাম। পুরো ভাটাটিই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।’ আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি, যোগ করেন মনছুর ছৈয়াল।
শরীয়তপুরে পদ্মায় পানি বেড়ে নদীভাঙন, ছবি- প্রতিানিধি জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত দুই মাসে শরীয়তপুরে পদ্মার ভাঙনে দুই হাজার ৭৪০ পরিবার গৃহহীন হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার ১৩৬ পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৭৪ ব্যক্তিকে এক হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। পদ্মার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার ৫৩০ পরিবারকে এখনও কোনও ত্রাণসহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
শরীয়তপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মাহবুবা আক্তার বলেন, ‘কিছু পরিবারকে ত্রাণসহায়তা দেওয়া হয়েছে। আরও সহায়তা দেওয়ার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে নগদ অর্থ, চাল, টিন ও তাবু চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিছু বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সেগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে।’
শরীয়তপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য বলেন, ‘জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর থেকে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর লঞ্চঘাট পর্যন্ত নয় কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ ও খনন করার জন্য এক হাজার ২৮০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর তা বাস্তবায়ন হলে নদী ভাঙন স্থায়ীভাবে রোধ করা সম্ভব হবে।’
/এসএমএ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক