তিনটি লঞ্চ ডুবে যাওয়ার পর ১৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার কাজের কোনও অগ্রগতি হয়নি। দুপুর ১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ এমভি প্রত্যয় ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। প্রচণ্ড স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ চালানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক হাসান মাহমুদ। ।
তিনি বলেন, ‘ডুবে যাওয়া তিনটি লঞ্চের মধ্যে এমভি মৌচাক-২ এর খোঁজ পাওয়া গেছে। বাকী দুইটি লঞ্চের খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি।
ডুবে যাওয়া লঞ্চ তিনটি তল্লাশি ও উদ্ধারের জন্য নারায়নগঞ্জ থেকে দুপুর ১টায় ভেদরগঞ্জের দুলারচরে পৌঁছেছে উদ্ধারকারী জাহাজ এমভি প্রত্যয়। সেখানে ডুবে যাওয়া এমভি মৌচাক-২ লঞ্চটির খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু প্রচণ্ড স্রোত লঞ্চটিকে সুরেশ্বরের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় ওটাকে অনুসরণ করছে। এখন পর্যন্ত মৌচাক-২ লঞ্চটি আটকানো সম্ভব হয়নি। ডুবে যাওয়া অন্য দুইটি লঞ্চ এমভি মহানগর ও নড়িয়া-২ এর এখন পর্যন্ত কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ লঞ্চ তিনটির স্টাফ বা যাত্রীদেরও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ১৬ জনের নাম, পরিচয় পাওয়া গেলেও কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
নিখোঁজ ১৬ জন হলেন নড়িয়ার গোয়ালবাথান গ্রামের আকবর সরদারের ছেলে ও নড়িয়া-২ লঞ্চের দোকানদার রবীন সরদার (২৫), বিঝারী ইউনিয়নের হারুন তালুকদারের ছেলে ও নড়িয়া-২ লঞ্চের মাস্টার সজল তালুকদার (৩৮), নড়িয়া-২ লঞ্চের খালাসি জয়, মিস্ত্রী সাদেক, মহানগর লঞ্চের চালক ফরিদপুর জেলার শাহ আলম (৩৫), লঞ্চের গ্রিজারম্যান চাঁদপুর জেলার সালাহউদ্দীন (৩০), মৌচাক-২ লঞ্চের দোকানদার লিটন শেখ (২৫), মৌচাক-২ লঞ্চের বাবুর্চি মানিক মাদবর (৩৪), মৌচাক-২ লঞ্চের কেবিন বয় বরিশালের বশির (২৯), মৌচাক-২ লঞ্চের সুকানি ভোলা জেলার রফিক (৫৫), মৌচাক-২ লঞ্চের মাস্টার চাঁদপুরের জাকির (৪৪), মৌচাক-২ লঞ্চের লস্কর পলাশ (২০), মৌচাক-২ লঞ্চের যাত্রী নড়িয়ার লোনসিং গ্রামের মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী পারভীন আক্তার (৩৭), শাশুড়ি ফখরুন্নেছা (৫৫), মোহাম্মদ আলীর পাঁচ দিনের নবজাতক শিশু, নড়িয়া-২ লঞ্চের সুকানি মোশারফ হোসেন (৩৫)।
নড়িয়া-২ লঞ্চের চালক নাসির উদ্দীন জানান, তিনি চা খেতে তীরে নেমেছিলেন। নামার ৫ মিনিট পরই প্রচণ্ড ঘূর্ণিতে দড়ি ছিড়ে লঞ্চ তিনটি ডুবে যায়। নড়িয়া-২ লঞ্চটিতে তিনিসহ ৬ জন স্টাফ ছিলেন। বাকী ৫ জন এখনও নিখোঁজ।
প্রসঙ্গত, সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নড়িয়ার চেয়ারম্যান ঘাট এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা এক সঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় সেখানে ছয়টি লঞ্চ নোঙর করা ছিল। এর মধ্যে শরীয়তপুর-নারায়ণগঞ্জ রুটের এমভি মহানগর ও নড়িয়া-২ লঞ্চটি সঙ্গে সঙ্গে ডুবে যায়। পানির তোড়ে কাত হয়ে ভেসে যায় ঢাকা-শরীয়তপুর রুটের এমভি মৌচাক-২।








