ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের কাচঁপুরে চার শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) কর্তৃপক্ষ। সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানজটমুক্ত রাখতে বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। সওজের ভেকু ও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ছোট বড় দোকান, অবৈধ স্থাপনা। সড়ক জনপথ বিভাগের ( সওজ ) নারায়ণগঞ্জ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আলীউল হোসেন এ তথ্য জানান।
অভিযোগ রয়েছে, কাঁচপুর মোড়ে ফুটপাতে দোকানপাট বসিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী চক্র প্রতিমাসে বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায় করছে। যে কারণে বার বার উচ্ছেদের পর পুনরায় রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে দোকান পাট ও অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশে গড়ে ওঠা পান সিগারেট দোকান, মুদি, স্টেশনারি, ফলের দোকান, ফোন ও ফ্লেক্সিলোডের দোকান, হোটেল ও কাচা বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা সওজের বুলডোজার ও ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে করে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে হকারদের দখলকৃত লেনটি এখন যানচলাচলের উপযোগী হয়ে উঠেছে।
উচ্ছেদে অভিযানের নেতৃত্ব দেন সওজের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা) মো. মাহবুবুর রহমান ফারুকী।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ইমরান ফারহান সুমেল, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সোহেল মাহমুদ ও পুলিশসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী মহল কাঁচপুরে অবৈধ দোকানপাট ও নানা ধরনের স্থাপনা বসিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
তারা আরও জানান, কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বহুবার সওজ কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানের পরদিনই আবারও প্রভাবশালী মহল দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করে। এতে করে কাঁচপুর এলাকায় স্থায়ীভাবে কখনই যানজট নিরসন করা সম্ভব হয় না।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলী হোসেন ও কামাল মিয়া জানান, উচ্ছেদের পর আবারও দোকান বসাতে হলে স্থানীয় চাদাঁবাজদের মোটা অঙ্কের চাঁদা দিয়ে তাদের দোকানপাট বসাতে হবে।
আরেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী করিম হোসেন জানান, যতবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে ততবারই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পুলিশকে টাকা দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে অগ্রীম বাবদ টাকা নেওয়া হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ইমরান ফারহান সুমেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযানে ৪ শতাধিক অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। কাঁচপুর যানজটমুক্ত রাখতে ও নির্মাণাধীন দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুর জন্য রাস্তা নির্মাণ ও রাস্তা চওড়া করার জন্য এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।’
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলীউল হোসেন জানান, মূলত যানজট ও দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুর উন্নয়ন কাজের জন্য এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। রাস্তার লেন তৈরি করা হয়ে গেলে আর অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা কেউ বসাতে পারবে না।








