মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নে চারটি মণ্ডপে পূজার নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছেন স্থানীয় মুসলিমরা। পূজা আয়োজনের জন্য গঠিত নিরাপত্তা কমিটিতে হিন্দুদের সঙ্গে সঙ্গে রাখা হয়েছে স্থানীয় মুসলমানদেরও। তবে এবারই প্রথম নয়, গত বিশ বছর ধরেই এই পূজার কমিটিতে মুসলিমদের রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, খিদিরপুরের বাসুদিয়া মজুমদার বাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে বাসুদিয়া সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ, গয়ানাথ মৃধা বাড়ির খলাপাড়া সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ, পিংরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের পিংরাইল সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ ও রঞ্জিত সরকারের বাড়ির প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছে শুভরিয়া সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ। জমকালো আয়োজনে খিদিরপাড়ার পূজা মণ্ডপগুলোতে মুন্সীগঞ্জের বাইরের জেলা থেকেও অনেক মানুষ আসেন বলে জানা গেছে। তবে এই মণ্ডপগুলোয় পূজার নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্বে অংশ নিচ্ছেন মুসলমানরাও।
লৌহজং উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী শংকর চন্দ্র মৃধা বলেন, ‘গত বিশ বছর ধরে খলাপাড়া পূজা মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়। এই মণ্ডপে মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলার হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা পূজায় অংশগ্রহণ করতে আসেন। এখানে নিরাপত্তার কাজে হিন্দু-মুসলমান সবাই নিয়োজিত আছেন। নিরাপত্তা কমিটিতে সবাইকে রাখা হয়েছে।’
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনির হোসেন জানান, ‘লৌহজংয়ে মোট ৩২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর খিদিরপাড়া ইউনিয়নে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে চারটি মণ্ডপে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে হিন্দু-মুসলমানসহ সবাইকে নিয়ে এসব মণ্ডপের নিরাপত্তা কমিটি করা হয়েছে।’
জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমার জানান, ‘জেলায় মোট ২৮৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সরকারি সহায়তা হিসেবে প্রত্যেক পূজা মণ্ডপে পাঁচশ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। এখানে নিরাপত্তা বেশ ভালো। প্রত্যেক পূজা মণ্ডপে আনসার ও পুলিশ রয়েছে। এছাড়াও মুসলমানসহ সব ধর্মের লোকদের নিয়ে ও সর্বদলীয় একটি নিরাপত্তা উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয়েছে। পূজা শুরুর আগেই এ কমিটির তালিকা স্থানীয় থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।’
আরও পড়ুন- নোয়াখালীতে হাজার হাতের দুর্গা








