জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মঞ্জুর আলমের বিরুদ্ধে প্রো ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আমির হোসেনকে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার (৪ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ এর সম্পাদক অধ্যাপক আমির। এ বিষয়ে সকাল ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেফরুল হাসান চৌধুরী আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে অভিযোগপত্র ও জিডিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মঞ্জুর আলমের পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।
অধ্যাপক আমির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬ টা ৫৫ মিনিটে একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে এ হুমকি দেওয়া হয়। হুমকিদাতা তার পরিচয় দিলেও আমি তাকে চিনতে পারিনি।’
অধ্যাপক আমির অভিযোগপত্রে বলেন, “মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টা ৫৫ মিনিটে অপরিচিত নাম্বার থেকে একটি কল আসে। কলটি রিসিভ করলে ওপাশ থেকে ওই ব্যক্তি পরিচয় দিয়েই কথা শুরু করেন। কিন্তু আমি তাকে চিনতে পারিনি। তিনি সিনেট নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন এবং অশ্রাব্য ভাষায় প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবিরকে গালি দেন এবং নানা প্রসঙ্গের অবতারণা করেন। তিনি নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করেন। তিনি অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির ও আহুত আগামী ৬ অক্টোবরের বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটদের মহাসমাবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন এবং সমাবেশে এসে প্রতিবাদ জানানোর হুমকি দেন। আমি তাকে আলাপ আলোচনা করে দূরত্ব কমিয়ে আনার জন্য বলি। এ পর্যায়ে তিনি আমাকে বলেন, ‘কোবামু কোবামু কোবামু’। আমি বিব্রতবোধ করে লাইন কেটে দেই।”
এদিকে, হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করে মঞ্জুর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উনার অভিযোগ মিথ্যা। উনার সঙ্গে ফোনে আমার খুব ভালোভাবেই কথা শেষ হয়েছে। আমি যদি হুমকি দিয়ে থাকি সেটার রেকর্ডিং তো উনি সংগ্রহ করতে পারবেন। রেকর্ডিং শুনলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।'
তিনি আরও বলেন, 'উনি প্রো ভিসি হওয়ার পর আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। প্রো ভিসি হিসেবে তার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আমরা এসব নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলাম। গতকাল আমির ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় আহুত মহাসমাবেশের ব্যানারে শরীফ এনামুল কবিরের নাম থাকায় আমি এর প্রতিবাদ জানাই। '
মঞ্জুর আলম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ১৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
আরও পড়ুন:
একদিকে ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস, অন্যদিকে পুড়িয়ে মারার হুমকি








