খাদ্যমন্ত্রী মো. কামরুল ইসলাম বলেছেন, ‘বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণের নামে নাটক করতে কক্সবাজার গেছেন। সেখানে তিনি কী পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন তা আমরা জানি না। তবে আদালতে গিয়ে তিনি কী পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন তা আপনারা জানেন।’
রবিবার (২৯ অক্টোবর) গোপালগঞ্জে দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ খাদ্য আইন, ২০১৩ বাস্তবায়নে জনসচেতনতা’ শীর্ষক কর্মশালা উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি আদালত সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ২৪২ ধারায় খালেদা জিয়ার জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। খালেদা জিয়া আদালতে তার জবানবন্দি না দিয়ে রাজনৈতিক বক্তৃতা দিয়েছেন। আর এ কাজ করে তিনি আদালতের অনুকম্পা পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আদালতের হাত-পা বাঁধা, আদালত কাউকে অনুকম্পা দিতে পারেন না।’
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। আর মানুষের মৌলিক অধিকার নিরাপদ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে খাবার টেবিল পর্যন্ত আমরা খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। এ জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
একই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে.কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি বলেন, ‘বাঙালি জাতিকে পিছিয়ে দিতে বিএনপি-জামায়াত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণকে খালেদা জিয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন। তাই তিনি রোড-শো করে ত্রাণ বিতরণ করতে কক্সবাজার যাচ্ছেন।’
ফারুক খান আরও বলেন, ‘আমি তারপরও তাকে স্বাগত জানাই। রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টির আড়াই মাস পর তার ঘুম ভেঙেছে। একজন রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে তার আরও আগে এ ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়া উচিত ছিল।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক ও এফ.এ.ও এর প্রতিনিধি এ.কে. এম নুরুল আফসার।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকারের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইকবাল রউফ মামুন বক্তব্য রাখেন।
দিনব্যাপী কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, খাদ্য ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন।
এর আগে ‘বাংলাদেশ খাদ্য আইন, ২০১৩ বাস্তবায়নে জনসচেতনতা’ সৃষ্টি করতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিশু একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়।
আরও পড়ুন:
খালেদা জিয়ার কক্সবাজার সফর: বিকাল থেকে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট








