মৌসুমের শুরুতে বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা থাকলেও চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলনের আশা করছে মাদারীপুরের কৃষি বিভাগ। মাঠে মাঠে সোনালী ধান দেখে খুশি কৃষকরা। এরইমধ্যে জেলার প্রায় এক চতুর্থাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। সরকারিভাবে তেমন কোনও সহযোগিতা ছাড়াই নিজেদের উদ্যোগেই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন বলে দাবি কৃষকদের।
সরেজমিন দেখা গেছে, মাদারীপুর জেলার চারটি উপজেলাতেই এখন মাঠের পর মাঠ সোনালী ধানক্ষেত। কঠোর পরিশ্রম করে সেই ধান কাটছেন ও মাড়াই করছেন কৃষক-কৃষাণীর পরিবার। তারপরও তাদের চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক। মৌসুমের শুরুতে বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে ধান উৎপাদনের ব্যাপারে শঙ্কা থাকলেও চলতি মৌসুমে আমনসহ বিভিন্ন প্রজাতির ধানের ফলনে তারা খুব খুশি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, জেলায় মোট ২৬ হাজার ৭৩১ হেক্টর জমিতে ধানের চাষাবাদ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৩৯৮ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বোনা আমন ১৫ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে, উচ্চ ফলনশীল রোপা আমন ৫ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে, স্থানীয় জাতের রোপা আমন ৫ হাজার ৬২৯ হেক্টর এবং হাইব্রিড রোপা আমন চাষাবাদ করা হয়েছে ২ হেক্টর জমিতে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার মহিষেরচর এলাকার কৃষক মজলু মাতুব্বর ও আব্দুল হক বলেন, ‘বৈরি আবহাওয়ার পরও সরকারিভাবে তেমন কোনও সহযোগিতা ছাড়াই নিজ উদ্যোগেই তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।
মাঠেই মেশিনের সাহায্যে ধান মাড়াই কাজ করছিলেন ঝাউদি গ্রামের গৃহিনী জাহানারা বেগম ও তার দুই মেয়ে সাথী-বীথি। ধানের উৎপাদন ভালো হওয়ায় তারা খুশিতে মায়ের সঙ্গে ধান মাড়াইয়ের কাজ করছে।
জাহানারা বেগম বলেন, ‘ধান কাটার পর মাঠে বসেই মেশিন দিয়ে মাড়াই করার পর বাড়ি নিয়ে যাই। এবার আমন ধান ভালো হওয়ায় বেশ খুশি লাগছে। যেমন আবহওয়া ছিল, তাতে ধান ফলন নিয়ে অনেক ভয় ছিল।’
মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জি এম এ গফুর বলেন, ‘এরইমধ্যে জেলার শতকরা প্রায় ২৩ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে এবং এই হিসেবে চলতি মৌসুমে মাদারীপুর জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন হবে বলে ধারণা কৃষি বিভাগের।’
উল্লেখ্য, মাদারীপুর জেলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ফসলী জমিতে ধান চাষ হয়। কৃষি পরিবারগুলো ধান চাষ থেকে প্রাপ্ত অর্থের ওপর নির্ভরশীল।
আরও পড়ুন: ৩ দিনেও উদ্ধার হয়নি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯শ' সাদা খাতা








