‘কর বাহাদুর সম্মাননার সনদ ইংরেজিতে হলে ভালো হতো, কাজে লাগত’

সি এম তানজিল হাসান, মুন্সীগঞ্জ
২৩ নভেম্বর ২০১৭, ০৫:৫৪আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৭, ০৯:০২

মুন্সীগঞ্জের কর বাহাদুর মো. মজিবুর রহমান

‘কর বাহাদুর উপাধিসহ সাত বার আমি সেরা করদাতা নির্বাচিত হয়েছি। সরকারের তরফ থেকে এই স্বীকৃতি পেয়ে খুবই ভালো লাগে। তবে সম্মাননার সনদটি বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতে লেখা হলে আমাদের জন্য ভালো হতো। আমরা যারা বিদেশ থেকে কাঠ আমদানি করি তাদের কাজে লাগত।’ জেলার সেরা করদাতা হিসেবে ‘কর বাহাদুর’ উপাধি পাওয়ার অনুভূতি প্রসঙ্গে এসব কথাই বলেছেন মো. মজিবুর রহমান।

দীর্ঘ মেয়াদে যে পরিবারগুলো নিয়মিতভাবে কর দিয়ে আসছেন, তেমন ৮৪টি পরিবারকে পুরস্কৃত করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় মুন্সীগঞ্জ থেকে কর বাহাদুর সম্মাননা পেয়েছেন মো. মজিবুর রহমান ও তার পরিবার। ১৯৯২ সাল থেকে নিয়মিতভাবে সরকারকে কর দিচ্ছেন তিনি। এছাড়া তার স্ত্রী হাজী ছানোয়ারা বেগম ও অন্য দুই ভাই হাজী মো. জয়নাল আবেদীন সরদার ও হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন সরদারও নিয়মিতভাবে কর পরিশোধ করে আসছেন। মূলত কাঠের ব্যবসা করেন তারা। বিভিন্ন দেশ থেকে তারা কাঠ আমদানি করে এ পরিবারটি।

নারায়নগঞ্জ কর অঞ্চল (নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলা)-এর সহকারী কর কমিশনার শহীদুল্লাহ কায়সার বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জ জেলায় যারা দীর্ঘদিন থেকে নিয়মিতভাবে কর পরিশোধ করছেন, তাদের একটি তালিকা আমরা ঢাকায় পাঠাই। সেখানে মো. মজিবুর রহমান ও তার পরিবার কর বাহাদুর খেতাবে সম্মাননা লাভ করেন।’

কর বাহাদুর মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমার বাবা হাজী মো. আব্দুল খালেক সরদার ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী ছিলেন। তার তিনটি লঞ্চ ছিল। আমি নিজের ইচ্ছায় ও বাবার প্রেরণা ও সহযোগিতায় কাঠের ব্যবসায় আসি। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ এ পর্যন্ত এসেছি। ১৯৯২ সাল থেকেই কর দেই। এবার এক কোটি টাকার ওপরে কর দিয়েছি। আমার স্ত্রী ও ভাই মিলে আমাদের মোট কর প্রায় পাঁচ কোটি টাকার বেশি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সারা দেশে আমার মত প্রায় ৫০ জন ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা বিদেশ থেকে কাঠ আমদানি করেন। অনেক ব্যবসায়ী কর ফাঁকি দেন। কিন্তু করের টাকা আমাদের জন্য হালাল না, এটা সরকারের প্রাপ্য। সরকার এই টাকা দেশের উন্নয়নের কাজে ব্যয় করে। রাস্তা-ঘাট, সেতু, কালভার্ট নির্মাণ, বেতন ভাতা দেওয়া, ত্রাণ দেওয়াসহ বিভিন্ন কাজে করের টাকা ব্যয় করা হয়। ব্যবসায়ীরা যদি ঠিকমতো কর না দেয় তাহলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

এক ছেলে ও তিন মেয়ের জনক মো. মজিবুর রহমানের বড় মেয়ে গৃহিণী ও অন্য তিন সন্তান লেখাপড়া করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

 

/এএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম