দেশকে শত্রু মুক্ত করতে এক সময় অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন। ছুটেছেন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়। লড়েছেন হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। আজ সেই মুক্তিযোদ্ধার দিন কাটে হুইল চেয়ারে বসে। চিকিৎসা করাতে বসত ভিটে ছাড়া সহায় সম্বল সবই বিক্রি করেছেন। তারপরও সুস্থ হননি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আরেকবার অস্ত্রোপচার করলেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন বীর মুক্তিযোদ্ধ আব্দুল বারেক। কিন্তু সেই সামর্থ্য তার নেই। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারেকের বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের উদয়খালী গ্রামে। ১৯৭১ সালে ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ৩ নম্বর সেক্টর কমান্ডার এ কে এম শফিউল্লাহ ও সেকশন কমান্ডার নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
বাড়িতে সংবাদকর্মীদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেন, ‘যখন সুস্থ ছিলাম, তখন সবাই আমার খবর নিতো। এখন অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে আছি, হাঁটতে পারি না। কেউ খোঁজ নেয় না। ‘৭১ সালে যুদ্ধের মাঠে মরে গেলেও কোনও আফসোস থাকতো না। এখন চিকিৎসার অভাবে মরতে হচ্ছে।খুব ইচ্ছে করে জীবনের শেষ দিনগুলোয় যদি আবারও হাঁটতে পারতাম।’
আব্দুল বারেকের ছেলে কাজল মিয়া জানান, প্রায় তিন বছর আগে গোসলখানায় পা পিছলে পড়ে কোমরের হাড় ভেঙে যায় তার বাবার। পরে কৃষি জমি বিক্রি করে দু’দফায় চিকিৎসা করা হয়। হাড়ের ভাঙা অংশে লাগানো হয় স্টিলের প্লেট। এতে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়। তারপরও তার বাবা সুস্থ হননি। এখন তৃতীয়বার অস্ত্রোপচারের কথা বলছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু টাকার অভাবে তা করা সম্ভব হচ্ছে না। জমি যে বিক্রি করবেন তাও নেই।
আব্দুল বারেক প্রতি মাসে যে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান তা শেষ হয়ে যায় ওষুধ কিনতে। তিন ছেলে, তিন মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। তার স্ত্রীও অসুস্থ।
এ বিষয়ে তেলিহাটি ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল আউয়াল মৃধা বলেন, ‘বারেকের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তার চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তার চেষ্টা করেও পাইনি। পরে বিভিন্ন সময় নিজেরাই টাকা তুলে বেসরকারিভাবে তার চিকিৎসায় সহায়তা করেছি। রাষ্ট্র যদি তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতো তাহলে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা শান্তি পেতাম।’
এ ব্যাপারে শ্রীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘উনাকে (আব্দুল বারেক) প্রতি মাসের ভাতা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসার সহায়তার জন্য আবেদন করলে তাকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা হবে।’
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আকতার বলেন, ‘সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। শ্রীপুরে যে এমন অসহায় একজন মুক্তিযোদ্ধা আছে তা জানা ছিল না। তার ব্যাপারে খবর নিয়ে উপজেলা পরিষদ থেকে তাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তা করা হবে।’








