দুই মাস ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর ফিরে আসা সাংবাদিক উৎপল দাস দাবি করেছেন, অনেক টাকার মালিক ভেবেই হয়তো তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। রাজধানীর ধানমন্ডিতে মোবাইল ফোনে টাকা লেনদেন নিয়ে কথা বলার সময় অপহরণকারীদের টার্গেট হয়েছিলেন বলে মনে করেন উৎপল দাস। বুধবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরার থানাহাটিতে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।
বিধ্বস্ত চেহারায় উৎপল দাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘১০ অক্টোবর (অপহরণের দিন) রাজধানীর স্টার কাবাবের সামনে আমার একটি ফোন আসে। আমি মোবাইলে কিছু টাকা-পয়সার কথা বলছিলাম। আমার মনে হয়, ওখানেই কেউ আমাকে টার্গেট করেছে। তারা হয়তো মনে করেছে আমার অনেক টাকা। তারা (অপহরণকারীরা) আমাকে পেছন থেকে হাত ও চোখ বেঁধে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়।’
মাইক্রোবাসে করে জঙ্গলের মধ্যে একটি টিনশেড বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও জানান উৎপল। সেখানেই তাকে দীর্ঘদিন রাখা হয়। তিনি আরও জানান, স্যাঁতস্যাঁতে ও নোংরা ওই ঘরে দিনের পর দিন আটকে রেখে খাবার দেওয়া হতো। তার কাছে মুক্তিপণ হিসেবে টাকা দাবি করা হতো। তিনি বলেন, ‘ওরা (অপহরণকারীরা) আমাকে বারবার একটা কথাই বলতো-টাকা দে, তোর এত টাকা কোথায় রাখছিস।’
উৎপল জানান, এই ঘরের দরজা বাইরে থেকে সবসময় তালাবদ্ধ থাকতো, তিনি মাঝে মাঝে ঘরের মধ্যে হাঁটাহাঁটি করতেন। দুয়েকদিন আগে ঘরের বাইরে অপহরণকারীদের ফিসফিস করে বলতে শোনেন, ‘পুলিশ মনে হয় জেনে গেছে, আমরা কোথায় আছি।’ পুলিশ-র্যাব জেনে যাওয়ার কারণেই হয়তো তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন উৎপল।
যারা তাকে নিয়ে যায় তারা বারবার ‘তোর এত টাকা কোথায়, আমাদের কিছু টাকা দিয়ে দে’ এসব কথা বলতো বলে জানান তিনি।
উৎপল দাস বলেন, ‘যে কায়দায় আমাকে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জের ভুলতার শাহজালাল পেট্রোল পাম্পের সামনে নামিয়ে দেয়। তারা বলে- পেছনে পাম্প আছে, সেখান থেকে বাসে উঠে চলে যা। পরে বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী ও পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে আমার অবস্থান জানাই। এরপর আমাকে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়।’
সরেজমিনে থানাহাটি গ্রামে দেখা গেছে, সাংবাদিক উৎপলকে দেখার জন্য তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন গ্রামের লোকজন ও তার আত্মীয়-স্বজনরা। দীর্ঘ দুই মাস ১০ দিন পর ছেলেকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত পাওয়াতেই খুশি পরিবারের সদস্যরা। তবে এ নিয়ে কোনও আইনি পদক্ষেপ নিতে চান না তারা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উৎপল দাসের বাবা চিত্তরঞ্জন দাস, মা বিমলা রানী দাস ও বোন ববিতা রানী দাস বলেন, ‘উৎপলকে ফেরত পেয়েই তারা খুশি। এ নিয়ে তারা কোনও আইনি পদক্ষেপ নিতে চান না।’ জানামতে উৎপলের কোনও শত্রু নেই বলেও জানান তারা।
উল্লেখ্য গত ১০ অক্টোবর রাজধানী থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন সাংবাদিক উৎপল দাস। তিনি ফকিরাপুল এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার নিখোঁজের ঘটনায় গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর মতিঝিল থানায় দুটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার দুই মাস ১০ দিন পর মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতায় তার সন্ধান পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন-
খোঁজ মিলেছে সাংবাদিক উৎপল দাসের
ফিরে আসার পর প্রাথমিকভাবে যা বললেন উৎপল








