কিশোরগঞ্জে আলহাজ্ব আব্দুল কদ্দুছ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজে বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারিসহ কোনও জাতীয় দিবস পালিত হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও শিক্ষকদের বেতন-ভাতা না দেওয়া, অনুগতদের দিয়ে পরিচালনা কমিটি গঠন, বিনা দোষে শিক্ষক ছাঁটাই ও শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানিসহ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। বুধবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। কলেজটির শিক্ষক, মেডিক্যাল অফিসার ও ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. মাজহারুল ইসলাম ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি আব্দুল কদ্দুছের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলেজের প্রভাষক ডা. সফি উদ্দিন ভূঞা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মো. মোকাররম হোসেন, চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. মোবারক হোসেন, প্রভাষক ডা. নাফিজ আরা নাসরিন ও ডা. মাহবুব সফি সিরাজী প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ২০১৬ সালে সব মিলিয়ে কলেজের বার্ষিক আয় হয়েছিল ৫১ লাখ ৫৯ হাজার ৫০ টাকা। ব্যয় দেখানো হয় ১৬ লাখ টাকা। ব্যয় বাদ দিয়ে প্রায় সাড়ে ৩৫ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা থাকার কথা থাকলেও এ টাকা কোথায় রয়েছে কেউ জানে না।
অভিযোগ করা হয়, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়। তিন জন শিক্ষককে বিনা দোষে চাকরি করতে দেওয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড রেগুলেশন অমান্য করে অপছন্দের শিক্ষকদের ক্লাস করানোর সুযোগ না দিয়ে তাদের অনুপস্থিত দেখানো হয়।
কলেজটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বোর্ডের রেগুলেশন অনুযায়ী ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ পদ্ধতিতে যাতায়াত ভাতা দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ক্লাসের একজন শিক্ষককে তিনশ’ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও দুই ক্লাস মিলিয়ে ছয়শ’ টাকার বদলে দেওয়া হচ্ছে তিনশ’ টাকা। বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী আট মাস ক্লাস করার কথা থাকলেও সেখানে ক্লাস হয় মাত্র তিন মাস। এভাবেই কলেজের টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। দুর্নীতি জায়েজ করতে কলেজে দুই ধরনের রশিদ ব্যবহার করা হয়, একটি ছাত্রদের জন্য অন্যটি অডিটের জন্য। ফলে তাদের অনিয়ম প্রকাশ্যে আসে না।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এসব বিষয়ে কলেজের ১০ জন প্রভাষক ও চিকিৎসা কর্মকর্তা গত ৩ মে কলেজের সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) গোলাম মোহাম্মদ ভূঁইয়ার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছেও অভিযোগ করা হয়। সভাপতি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও প্রকৃতপক্ষে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় দিবসগুলো না পালনের অভিযোগগুলো মিথ্যা।’ যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমানের ফাঁসির রায় ঘোষণা ও কার্যকরের দিন কলেজ খোলা রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই দিন কলেজ খোলা ছিল, কিন্তু শিক্ষার্থীরা যায়নি। এখানে অনেক শিক্ষক আছেন যারা দীর্ঘদিন কলেজে না গিয়েও সুবিধা নিতে চান। এ সব করতে দেওয়া হয়নি বলেই তারা আমার বিরুদ্ধে লেগেছে।’ শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘কোনও অভিযোগ থাকলে তারা আদালতে যেতে পারেন।’
কলেজের সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) গোলাম মোহাম্মদ ভূঁইয়া বলেন, ‘আর্থিক অনিয়মসহ কোনও দুর্নীতি হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কলেজের সার্বিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।’
কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সহসভাপতি আব্দুল কদ্দুছের মোবাইল ফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।








