গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানীতে সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি-মুকসুদপুর সার্কেল) অফিস ও বাসা লক্ষ্য করে গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা। রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাশিয়ানী উপজেলা সদরের (বাজারের দক্ষিণ পাশে) সেলিম মৃধার তিন তলা ভবনের নিচ তলায় ২০১৭ সালের ২৮ জানুয়ারি এএসপি সার্কেল মুকসুদপুর অফিস ও বাসা হিসাবে ভাড়া নেয়। সম্প্রতি কাশিয়ানীতে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনায় মুকসুদপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান সন্ত্রসীদের টার্গেটে পরিণত হন।
মুকসুদপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রাহায়ন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা আমাকে লক্ষ্য করেই সম্ভবত গুলিটি করে। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আমার বাসার জানালার গ্লাসের লাগে। জানালার গ্লাস ভেদ করে গুলি রুমের ভেতরের দেওয়াল ও টিভিতে লাগে।’
কাশিয়ানী থানার ওসি এ কে এম আলীনূর হোসেন বলেন, ‘১৭ ডিসেম্বর উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন শেষে রাত সাড়ে ৮টায় একটি সাদা মাইক্রোতে কয়েকজন অস্ত্রধারী যুবক কাশিয়ানী অগ্রণী ব্যাংকের সামনে থেকে কাশিয়ানী এমএ খালেক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এজিএস মো. মাহমুদুল ইসলাম শিকদারকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তুলে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান অভিযান চালিয়ে ওই ভিকটিম মাহমুদুল ইসলামকে উদ্ধার করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনার জের ধরে শীর্ষ সন্ত্রাসী আট মামলার আসামি (বর্তমানে নয় মামলার) সনেট ওরফে পিস্তল সনেটকে (৩৫) গ্রেফতার করে পুলিশ। সনেটের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ১৯ ডিসেম্বর রাতে রাতইল ইউনিয়নের চাপ্তা বালুর মাঠে অস্ত্র উদ্ধার করতে গেলে সনেটের সঙ্গীরা পুলিশের ওপর হামলা করে এবং গুলি ছোড়ে। পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। এ সময়ে সনেট ওরফে পিস্তল সনেট গুলিবিদ্ধ (পায়ে) হয়। এ কারণে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মুকসুদপুর সার্কেলের বাসায় গুলি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’








