নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। শনিবার রাত ৯টা থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের ঢাকার সবুজবাগ ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো র্যাব-১১ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাকিল আহমেদের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- আহমদ উল্লাহ পাটোয়ারী ওরফে ইমরান ওরফে ফরহাদ হোসাইন ওরফে সানি ওরফে শ্যামল (২১), জাবাল-ই-নুর সিয়াম ওরফে মুসাব (২৪) ও মুফতি হোসাইন আহমেদ ওরফে হোসেন ওরফে বেলাল (৩২)। এ সময় তাদের কাছ থেকে জঙ্গিবাদি বই ও লিফলেটসহ ২ লাখ ৭ হাজার ৮৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
রবিবার বিকেলে র্যাব আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের তিন সদস্যকে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। বিচারক সোমবার (১ জানুয়ারি) শুনানির দিন ধার্য করে তাদের জেল হাজাতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গ্রেফতার আহমদ উল্লাহ পাটোয়ারী ২০১৩ সালের শুরুর দিকে সমবয়সী একজনের মাধ্যমে আনসার আল ইসলামে (আনসারল্লাহ বাংলা টিম) যোগ দেন। আহমদ উল্লাহ পাটোয়ারীর নেতৃত্বে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্যদের একাধিক গোপন বৈঠক হয়। ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্লগারদের অনুস্বরণ করাসহ তাদের বিভিন্ন পোস্ট শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের দৃষ্টি গোচর আনাই ছিল তার প্রধান কাজ।
জাবাল-ই-নুর সিয়াম ২০১১ সালে পারিবারিক এক বন্ধুর মাধ্যমে হিযবুত তাহরীরে যোগদান করে এবং ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সে এই সংগঠনে ছিল। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে সৈয়দ রায়হান কবির (র্যাবের হাতে গ্রেফতার)ও ফয়সাল রহমানের মাধ্যমে আনসার আল ইসলামে (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম)যোগদান করে। সে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে সংগঠনে দিয়ে আসছিল।
মুফতি হোসাইন আহমেদ জঙ্গিবাদী মতবাদে অনুপ্রাণিত হয় জসিম উদ্দিন রাহমানির মাধ্যমে। পরে ২০১৪ সালে তিনি বায়তুন নূর জামে মসজিদ, সবুজবাগে ইমামতি শুরু করে এবং ইমামতির আড়ালে নিষিদ্ধ ঘোষিত জিহাদী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ হয়।পরে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করে।
আরও পড়ুন: নিখোঁজের চারদিন পর পরিবহন সুপারভাইজারের মরদেহ উদ্ধার








