রুপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দিন সাক্ষ্য দিলেন চার জন

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
০৭ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:৫০আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:৫০

রুপা হত্যা মামলার আসামিরা টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ঢাকার আইডিয়াল ল’ কলেজের ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের মামলায় দ্বিতীয় দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। রবিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া এ সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। 

টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি এ কে এম মো.নাছিমুল আখতার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  তিনি জানান, দ্বিতীয় দিন সাক্ষ্য দেন চার জন। এরা হলেন- আব্দুর রশিদ,প্রবীণ এন কুমার বাদী,আবুল হোসেন ও রহিজ উদ্দিন।

বিশেষ পিপি নাছিমুল আখতার আরও জানান, দ্বিতীয় দিনের এ সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম পর্ব চলে বেলা পৌনে ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। এ সময় চার জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। এ মামলায় মোট ৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেবেন। এর মধ্যে মামলার বাদী ও স্থানীয় আট জন রয়েছেন।

তিনি জানান,  সোমবার (৮ জানুয়ারি) বাকি চার জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত। এরা হলেন লাল মিয়া, হাসমত আলী,আব্দুর রউফ ও জয়নাল আবেদীন। এর আগে বুধবার (৩ জানুয়ারি) এ মামলায় প্রথম সাক্ষ্য দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম।

পিপি আরও জানান,এ ঘটনায় গ্রেফতার  ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীর (৫৫) বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের (সংশোধিত ২০০৩) ৯ এর তিন ধারায় গণধর্ষণের অভিযোগ এবং দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ, ২০১ ধারায় লাশ গুমের অভিযোগ এবং ৩৪ ধারায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে চার্জশিটে। চার্জশিটে ৩২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এদের মধ্যে পুলিশ,চিকিৎসকসহ পাঁচ-ছয়জন সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার টাঙ্গাইল জেলার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন শামীম চৌধুরী দয়াল ও ঢাকা জজ  কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. দেলোয়ার হোসেন।

উল্লেখ্য,গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রুপাকে চলন্ত বাসে ধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা। বাসেই তাকে হত্যার পর মধুপুর উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের ভেতর রুপার মরদেহ ফেলে যায় তারা। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত পরিচয়ে  মরদেহটি উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে  দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে তার ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হন। ২৮ আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম, আকরাম,  জাহাঙ্গীর এবং চালক হাবিবুর ও সুপারভাইজার সফর আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আসামিরা বর্তমানে টাঙ্গাইল কারাগারে আছেন।

/এসএসএ/বিএল/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
একদিনে হামে আর ৪ মৃত্যু
একদিনে হামে আর ৪ মৃত্যু
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী