আট লেন সড়কের চাপ দুই লেনের সেতুতে

আমির হুসাইন স্মিথ, নারায়ণগঞ্জ
১৭ জানুয়ারি ২০১৮, ২২:৪৯আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:৪০

নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় সময়ই লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট।

অর্থনীতির লাইফ-লাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক আট লেনে উন্নীত হলেও মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু দুই লেনের হওয়ায় প্রায়ই তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট, আর এতে আটকা পড়ে ভোগান্তির শিকার হতে হয় যাত্রীদের। কখনও কখনও যানজট তীব্র আকার ধারণ করে ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার এলাকাও ছড়িয়ে যায়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার থেকে কাঁচপুর ডাচবাংলা ব্যাংকের মোড় পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক আট  লেন। ডাচবাংলা ব্যাংকের মোড় থেকে কাঁচপুর সেতু পর্যন্ত মহাসড়কটি আবার চার লেনের। কিন্তু,কাঁচপুর সেতুতে গিয়ে গাড়ি ওঠে দুই লেনে। অর্থাৎ চার লেনের গাড়ি আবার এক লেনের সেতুতে উঠছে। সেতুর অপর লেনটি কুমিল্লা-চট্টগ্রামের দিক থেকে ঢাকায় আসা গাড়ির জন্য ব্যবহৃত হয়।

স্থানীয়রা জানান, চার লেনের গাড়ি সেতুতে এসে এক লেনে চলে আসতে বাধ্য হওয়ার কারণে বন্ধের দিন বা কোনও উৎসব পার্বণে  যখন দুই তিন দিন সরকারি ছুটি থাকে সেসময় অন্যান্য দিনের চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি যানবাহন রাস্তায় থাকে।  এতে করে যানজট কাঁচপুর সেতু থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত মহাসড়কে কোনও খানা-খন্দক নেই। রাস্তা যান চলাচলের জন্য ভালো অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু,কাঁচপুর সেতুতে ওঠার রাস্তায় কিছু জায়গা উঁচু-নিচু রয়েছে। এ কারণেও সেতুতে উঠতে গিয়ে যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়।

শিমরাইল ট্রাফিক পুলিশের ইনপেক্টর মোল্লা তসলিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আট লেন থেকে এসে কাঁচপুর সেতুতে উঠতে হচ্ছে দুই লেনে। এছাড়া শিমরাইল মোড়ে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করা,  সেতুতে ওঠার সময় চালকদের মধ্যে অশুভ প্রতিযোগিতা এবং কাঁচপুর সেতুর পশ্চিম পাশে বালু ও পাথরের ট্রাক ঘোরানোর কারণে অনেক সময় যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া অন্যান্য সেতুর তুলনায় কাঁচপুর সেতুর ঢালও একটু বেশি খাড়া।যে কারণে পণ্যবাহী ট্রাক ওঠার সময় কিছুটা ধীরগতি থাকে। এখানে যানবাহন বিকল হয়েও যানজট সৃষ্টি করে। তবে ট্রাফিক পুলিশ নিরলস চেষ্টা করে এই সড়ক সচল রেখে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে।’

এদিকে কাঁচপুর সেতুর পূর্বপাড় থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে হয়েছে অনেক আগেই। দুই লেনের সেতু পার হতে চার লেনের সড়কে টোল আদায় বসানো হয়েছে আটটি বুথ। এই দুই কারণ মিলেও ঢাকা-চট্টগাম মহাসড়কে যানজট।শুধু মেঘনা সেতু পার হতেই একেকটি যানবাহনকে আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা বাড়তি সময় লাগছে। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ থাকলে এখানে সময় আরও বেশি লাগছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চলাচলকারী স্টার লাইন বাসের চালক নুরুদ্দিন আহমেদ জানান, ‘প্রায়ই সেতু পর্যন্ত আসতে চার-পাঁচ কিলোমিটার যানজটে পড়ে প্রায় এক ঘণ্টা বাড়তি সময় লাগে।’ অপর ট্রাকচালক আলী হোসেন অভিযোগ করেন, মেঘনা টোল প্লাজায় টোল আদায়ে ধীরগতি এবং ওজন স্কেল মেশিনের নানা অনিয়ম দুর্নীতির কারণেও তৈরি হচ্ছে যানজট।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লেন বাড়লেও কাঁচপুর ও গোমতী সেতু দুই লেনের হওয়ায় যানজটে আটকে আছে অসংখ্য ট্রাক। ছবিটি সম্প্রতি তোলা।

এই দুই সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্বে রয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার সিস্টেম নেটওয়ার্ক (সিএনএস) লিমিটেড। এর কর্মকর্তারাও বলছেন,  দুই লেনের সেতুর কারণেই যানজট হচ্ছে। নতুন যে তিনটি সেতু নির্মাণ কাজ চলছে সেই তিনটি সেতু নির্মাণ হলেই এ যানজটের কবল থেকে মুক্তি মিলবে। নতুন সেতু তিনটি হচ্ছে দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা সেতু ও দ্বিতীয় মেঘনা গোমতী সেতু।

তবে সেতুর টোল আদায়ে অনিয়মের কারণে মহাসড়কে যানজট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হাইওয়ে পুলিশ। কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনপেক্টর আলী রেজা যানজটের কারণ সম্পর্কে বলেন,সরু মেঘনা সেতু ও মেঘনা সেতুর টোল আদায়ের ধীরগতির কারণেই এ এলাকায় প্রায়ই যানজট হচ্ছে।  তিনি বলেন, ‘ওজন স্কেলে পণ্যবাহী যানবাহন ওঠানো নিয়ে ড্রাইভারদের সঙ্গে ওজন স্কেল মেশিনের লোকজনের হইচইও যানজট তীব্র হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’

নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায়ই একদিক থাকে যানজটে আটকা, আরেক দিক থাকে খালি।

এ ব্যাপারে মেঘনা সেতু টোলপ্লাজার টোল আদায়ে নিয়োজিত সিএনএস  লিমিটেড কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক (প্রকল্প ব্যবস্থাপনা) মেজর (অব.) জিয়াউল আহসান সারোয়ার টোল প্লাজার টোল আদায় ও ওজন স্কেল মেশিনের অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘পুলিশ যদি অনিয়মের অভিযোগ করে তারা এসে কেন ব্যবস্থা নেয় না। নিয়ম মেনেই টোল আদায় করা হচ্ছে।’ তিনি যানজটের জন্য মেঘনা ও মেঘনা গোমতী  দুই লেনের সেতুকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘মহাসড়কে প্রতিদিন যানজট লাগে না। যে দিন সরকারি ছুটি বা উৎসব পার্বণ থাকে সে সময় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে যায়। সে সময় সড়কে যানজট তৈরি হয়। এছাড়া টোল বুথে খুচরা টাকা নিয়ে কিছুটা বিলম্ব হয়। এ কারণে টোল বুথ টাচ অ্যান্ড গো চালু করা হলেও গাড়ির মালিক ও চালকরা সে দিকে বেশি আগ্রহী নন। ওজন  স্কেলে চালকদের ওঠানো নিয়ে কিছুটা বেগ পেতে হয়। আবার ড্রাইভারদের এক রোখা মনোভাবও যানজটের জন্য দায়ী। নির্মাণাধীন মেঘনা ও মেঘনা গোমতী সেতু চালু না হলে এই যানজটের দুর্ভোগ মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।’

/এফএস/ টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম