নারায়ণগঞ্জে ফুটপাতে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তার সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তা এখনও মামলা হিসেবে নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা জি এম এ সাত্তার বাদী হয়ে অভিযোগটি করেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঘটনার দিন অস্ত্র প্রদর্শনকারী নিয়াজুল ইসলাম খান, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত প্রায় ৯০০ থেকে ১০০০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে অস্ত্রধারী যুবলীগ নেতা নিয়াজুল ইসলাম ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম ছাড়া অন্যরা হলেন- মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগকর্মী নাসির উদ্দিন ওরফে টুন্ডা নাসির, যুবলীগ নেতা চঞ্চল মাহমুদ।
এদিকে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, ‘আমি নিয়াজুলকে গ্রেফতার করতে কয়েকটি অভিযান চালিয়েছি। ওকে পাওয়া যাচ্ছে না।’
উল্লেখ্য, ফুটপাতে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় মেয়র আইভী ও তার সমর্থকদের ওপর হকার ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সমর্থকরা হামলা চালায়। সংঘর্ষে মেয়র আইভী, সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত হন। এই ঘটনায় শামীম ওসমানের সমর্থক নিয়াজুল ইসলামকে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে গুলি চালাতে দেখা যায়। পরে তিনি গণপিটুনির শিকার হন। এই ঘটনায় পরদিন নিয়াজুল বাদী হয়ে অস্ত্র ছিনতাই ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় অভিযোগ দাখিল করে।
আরও পড়ুন- আইভীকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ








