৪৭ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি মানিকগঞ্জের কিয়ামুদ্দিন খাঁ

মতিউর রহমান, মানিকগঞ্জ
১০ মার্চ ২০১৮, ১২:৩৭আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৮, ১৪:৫৪

চুহাত্তর বছর বয়সী কিয়ামুদ্দিন খাঁ স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। সংশ্লিষ্ট দফতরে ঘুরে কোনও উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত স্বীকৃতি পেতে রাস্তায় নেমেছেন এ মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধকালীন সময়ে তার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র থাকার পরও মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেওয়া হচ্ছে না বলে তার অভিযোগ।

ব্যানার হাতে রাস্তায় দাঁড়ানো মুক্তিযোদ্ধা কিয়ামউদ্দীন কিয়ামুদ্দিন খাঁ মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের সাকরাইল গ্রামের মৃত কেরুমুদ্দিন খাঁর ছেলে। মুক্তিযুদ্ধের আগে ঢাকায় তিব্বত কোম্পানিতে শ্রমিক হিসাবে চাকরি করতেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে চাকরি ছেড়ে বাড়িতে চলে আসেন। এসময় মানিকগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিম চৌধুরী পরবর্তীতে ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিম চৌধুরী ২ নম্বর সাব-সেক্টরের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তার নির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং গ্রহণ ও সরাসরি যুদ্ধেও অংশ নেন কিয়ামুদ্দিন।

যুদ্ধকালীন স্মৃতিপট বর্ণনা করে কিয়ামুদ্দিন জানান, মানিকগঞ্জ জেলা শহরে পাক হানাদার বাহিনীর ঢুকে পড়লে ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা দুর্গম হরিরামপুর উপজেলায় অবস্থান নেন। সেখানেই তার নেতৃত্বে শুরু হয় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। প্রথম ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে কিয়ামুদ্দিনও একজন। পর্যাপ্ত অস্ত্র না থাকায় লাঠি দিয়েই ট্রেনিং হতো বলে তিনি জানান। একমাস ট্রেনিং শেষে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ভারত থেকে অস্ত্র আনার। তার সঙ্গী ছিলেন আ. ছাত্তার আর গুরুদাস কাপালি। এই তিনজন ছাড়াও দু’জন জেলেকে নিয়ে তিন দফায় তারা রাজশাহীর প্রেমতলী বর্ডার থেকে নৌকায় পদ্মা নদী দিয়ে অস্ত্র এনেছেন হরিরামপুরে। পরবর্তীতে ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরী তাদের ভিন্ন একটা দায়িত্ব দেন। কোনও খাবার-দাবার বা পণ্য যেন নদীপথে ঢাকায় যেতে না পারে সে জন্য হরিরামপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে পাহারা বসানো হয়। আর এই দায়িত্ব দেওয়া হয় কিয়ামুদ্দিনসহ আরও কয়েকজনকে।

এই মুক্তিযোদ্ধা আরও জানান, যুদ্ধ শেষে তাকে দেওয়া হয় ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরী এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গনি ওসমানীর স্বাক্ষরিত সনদ। ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরীর সনদটি এখনও তার কাছে আছে গচ্ছিত থাকলেও কর্নেল আতাউল গনি ওসমানীর সনদপত্রটি নষ্ট হয়ে গেছে।

লেখাপড়া জানা না থাকায় মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তালিকভুক্তির বিষয়টি জানা ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘লোকমুখে শুনে বছর পাঁচেক আগে আবেদন করি, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা অফিসের গাফিলতির কারণে সে আবেদন যথাস্থানে পৌঁছেনি। পরে আবারও আবেদন করি, সে আবেদনে সুপারিশ করেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেনসহ আরও দু’জন সহযোদ্ধা। তবু তাকে সনদ দেওয়া হচ্ছে না।’

সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কাছেও তিনি কোনও সহায়তা পাননি। এর প্রতিবাদে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে কয়েক ঘণ্টা একটি ফেস্টুন বুকে টাঙিয়ে অবস্থানও করেছিলেন সম্প্রতি। কিয়ামুদ্দিন খাঁ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ করেছি এরকম প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার পরেও আমার নাম তালিকাভুক্ত হচ্ছে না।’

/এমও/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম