শ্রমিকদের দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে বন্ধ কারখানার মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকালে মালিক পক্ষের লোকজনকে মিলের ভেতরে আটকে রেখে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। শুক্রবার (১৮ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কাঞ্চন পৌরসভার কাঞ্চন বাজারের ফ্যাক্সিমার্ট বিডি গার্মেন্ট কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের সহায়তা নিয়ে কারখানার মালিকপক্ষ মিল থেকে সটকে পড়েন।
শ্রমিকরা জানান, কাঞ্চন বাজারের ফ্যাক্সিমার্ট বিডি গার্মেন্টস কারখানায় প্রায় দুইশ শ্রমিক কাজ করতো। গত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত কাজ করলেও মালিকপক্ষ তাদের বেতন পরিশোধ করেনি। শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে কয়েক দফা কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ করেন। কিন্তু, মালিক কর্তৃপক্ষ বেতন দেই, দিচ্ছি বলে কয়েকবার তারিখ নির্ধারণ করেও বেতন পরিশোধ করেনি। এপ্রিল মাসের শেষের দিকে শ্রমিকদের কোনও নোটিশ না দিয়ে রাতের আঁধারে কারখানার গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে গার্মেন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়। সর্বশেষ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে ১৫ মে সব বকেয়া পরিশোধ করা হবে বলে শ্রমিকদের জানায়। কিন্তু, বকেয়া পরিশোধ না করে শুক্রবার (১৮ মে) জুমার নামাজের সময় মালিকপক্ষের লোকজন পিকআপভ্যানে গার্মেন্টের মেশিনপত্র ও তৈরি মালামাল নিয়ে যাওয়ার জন্য কারখানার ভেতরে ঢোকে। খবর পেয়ে গার্মেন্ট শ্রমিকরা মালিকপক্ষের লোকজনদের অবরুদ্ধ করে রাখে। তারা গার্মেন্টের সামনে বকেয়া বেতন ও গার্মেন্ট চালুর দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরে নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ ও রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। পুলিশ মালিকপক্ষের লোকজনকে শ্রমিকদের কাছ থেকে উদ্ধারের পর তারা দ্রুত কারাখানা থেকে সটকে পড়েন।
ফ্যাক্সিমার্ট গার্মেন্টের মালিক কবিরুল হাসান মিরাজ বলেন, ‘একটু সমস্যা থাকার কারণে শ্রমিকদের বেতন দিতে দেরি হচ্ছে। গার্মেন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছি। আশা করি এক সপ্তাহের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে কারখানা পুনরায় চালু করবো। এছাড়া আরএসএইচ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কিছু কাপড় আমার গার্মেন্টে মজুত ছিল। তারা হয়তো সেই কাপড়গুলো নিতে এসেছিল।’
রূপগঞ্জের ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. সেলিম মিয়া জানান, বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা রাস্তায় বিক্ষোভ করছেন খবর পেয়ে গার্মেন্ট কারখানায় যাই। পরে মালিকের সঙ্গে কথা বলে ১৫ মে বকেয়া বেতন পরিশোধ করবে বলে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করলে তারা চলে যায়। কিন্তু ১৫ মে মালিক কবিরুল হাসান মিরাজ গার্মেন্টে আসেনি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। যে কারণে বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়নি। কারখানা চালু অবস্থায় মিরাজকে কিছু টাকা অগ্রিম দিয়ে ফ্যাক্সমাট গার্মেন্টকে সাবকন্ট্রাক্টে কিছু কাজ দেয় এক ব্যক্তি। কিন্তু বকেয়া বেতন নিয়ে মালিক শ্রমিকের ঝামেলার কারণে ওই সাবকন্ট্রাক্টের কোনও কাজ হয়নি। ওই ব্যক্তির সাবকন্ট্রাক্টের কাপড়সহ মালামাল বন্ধ ফ্যাক্টরিতে বেশ কিছু দিন ধরে পড়ে রয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর সাবকন্ট্রাক্টরের লোকজন তাদের মালামাল নিতে এলে শ্রমিকরা মিলের ভেতরে তাদের অবরুদ্ধ করে।
নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশের রূপগঞ্জ জোনের এএসআই আনোয়ার হোসেন জানান, বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। যাদের মিলের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে তারা মিলের কেউ নয়। তারা এই কারখানায় সাবকন্ট্রাক্টে কাজ দিয়েছিল। সেই মালামাল নিতে এসেছিল। পরে তাদের উদ্ধার করলে তারা চলে যায়।
এ প্রসঙ্গে জানতে কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের উপপরিদর্শক (নারায়ণগঞ্জ) ইকবাল আহমেদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।








