ফরিদপুর জেলায় এবছর বোরো ধানের উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করতে পারে বলে স্থানীয় কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত সার ও কিটনাশক এবং কৃষকের সদিচ্ছার কারণে এই উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে বলে কৃষিবিদদের ধারণা।
জেলার সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের পুরুয়া গ্রামের কৃষক আবু মোল্লাহ জানান, এবার তিন বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের বোরো ধান আবাদ করে ভালো ফলন পেলেও অতি বৃষ্টির কারণে কিছু পাকা ধান পানিতে পরে নষ্ট হয়েছে।
ভাংগা উপজেলার আতাদি গ্রামের কৃষক আবুল বাসার এই প্রতিবেদকে বলেন, ‘উৎপাদন ভালো হলেও ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি গত বারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন। তাই বিঘা প্রতি সাত হাজার টাকা খরচ হয়। এ কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে।
কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী এবছর ২৪, ৯৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। তার মধ্যে ২২, ৬১৫ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল, ১৫০৫ হেক্টরে স্থানীয় ও ৮২০ হেক্টরে হাইব্রিড জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে। যেখান থেকে এবছর উৎপাদন হবে এক লাখ মেট্রিক টনের অধিক। যা অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারনা। গত বছর ২১, ৯১৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়ে ছিল ৯৪৭২০ মেট্রিক টন ধান।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনুকুল আবহাওয়া ও ধান উৎপাদনের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার জেলায় রেকর্ড পরিমাণ বোরো ধান উৎপাদন হবে।
ধান কাটার ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘সরকার প্রত্যেক উপজেলা সেবা কেন্দ্রে পাঁচটি করে রেপার মেশিন দেওয়া হয়েছে। সেগুলো থেকে ভাড়া নিয়ে কৃষকরা ধান কাটতে পারবে। যদিও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। এছাড়া ৫০% ভর্তুকি মূল্যেও সরকার এই যন্ত্র কেনার ব্যবস্থা করেছে।








