ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের ভুলতায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের জন্য ঈদে ঘরমুখো মানুষ দুর্ভোগে পড়তে পারেন বলেন শঙ্কা করা হচ্ছে। ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজের জন্য রাস্তার দুইপাশ সরু হয়ে গেছে। বৃষ্টিপাতের কারণে ফ্লাইওভারের গোলাকান্দাইল অংশে রাস্তায় ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-গাজীপুর-মদনপুর বাইপাস সড়কে বেশ কয়েকটি গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। এ কারণে প্রায় প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে ঢাকা-সিলেট মাহাসড়কে ভুলতায়।
ঈদে ঘরমুখো মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল ৪-৫ গুণ বেড়ে যাবে। ওই সময় গাড়ির ধীরগতির কারণে মহাসড়কে যানজট নিরসন করা খুবই দুরূহ হয়ে পড়বে বলে মনে করছের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা -সিলেট রুটে চলাচলকারী তিশা পরিবহনের চালক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা থেকে সিলেট যেতে সময় লাগে ৫-৬ ঘণ্টা। তবে ভুলতায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের নিচের দেড় কিলোমিটার জায়গা পার হতে সময় লাগে দেড়-দুই ঘণ্টা।’
তিনি বলেন, ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ চলায় দুই পাশের রাস্তা অনেক সরু হয়ে পড়েছে। রাস্তার কিছু অংশে পিচ, ঢালাই উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য মাত্র ৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এক-দেড় ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে।
মিতালি পরিবহনের চালক ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ঈদের সময় যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে যায়। ওই সময় রাস্তা খারাপ থাকে তবে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত খুব কঠিন হবে। রাস্তার ধীরগতির কারণে মহাসড়কে তীব্র যানজটের শঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ভুলতা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওপর দিয়ে গাজীপুর মদনপুর বাইপাস সড়কের যানবাহন , ভুলতা থেকে রূপগঞ্জ থানা রোড, এবং গোলাকান্দাইলের মাথা থেকে আড়াইহাজার উপজেলা সড়ক থেকে নিয়মিত যানবাহন এসে এই মহাসড়কে উঠছে। মহাসড়কের চার রাস্তার মাথায় রেশনিং করে যানবাহন ছাড়ছে ট্রাফিক পুলিশ। এক পাশে ১০ মিনিট গাড়ি ছাড়লে আরেক পাশ ১০ মিনিট গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ব্যস্ততম এই সড়কে একটি সিগ্যানাল পার হতে গিয়ে কমপক্ষে অর্ধশত যানবাহনের লম্বা লাইন পড়ে যায়।
ঈদের সময় যানবাহনের চাপ দ্বিগুণ হারে বেড়ে গেলে তখন এই সিগন্যালে লাইন আরও লম্বা লাইন হবে। দেড় কিলোমিটার লম্বা এই ফ্লাইওভারের বেশ কয়েকটি বাক রয়েছে। এই বাকের কারণেও সড়কে যানবহন ধীরগতিতে চলতে হয়।
সম্প্রতি ভুলতা ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে এসে সড়ক ও পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী জানিয়েছেন, এরই মধ্যে ফ্লাইওভার নির্মাণের ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ৩০ শতাংশ কাজ আগামী সেপ্টম্বরের দিকে শেষ হবে।
ভুলতা ফ্লাইওভার নির্মাণ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেতু বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করতে হলে ঈদের সময়ও ফ্লাইওভারের কাজ চলমান থাকবে।
ভুলতা ফ্লাইওভারের নিচে দায়িত্বরত ট্রাফিক ইনপেক্টর (টিআই) মাহবুব শাহ জানান, ঈদের সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহনের স্বাভাবিক দিনের তুলনায় চাপ ৪-৫ গুণ বেড়ে যাবে। ওই সময় এই সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন হবে। ঈদের সময় যখন গাড়ির চাপ বেশি থাকবে। তখন এই রেশনিং করতে গিয়ে গাড়ির র্দীঘ লাইন হয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, ‘একটি গাড়ি পাস হতে কমপক্ষে ২০-৩০ সেকেন্ড সময় লাগে। কিন্তু ভাঙা রাস্তার কারণে একেকটি গাড়ির এক থেকে দেড় মিনিট সময় লাগবে। এভাবে সময় ক্ষেপণ হলে ফ্লাইওভারের নিচের জায়গাটি পার হতে একটু সমস্যা হতে পারে। এই সড়কের গর্তগুলো যদি ঈদের আগেই মেরামত করে দেওয়া হয়, তবে যানজট হবে না। ট্রফিক পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যাতে কোনও যানজট না হয় এবং দ্রুত যানবাহন পাস করা যায়।’








