নির্মাণের ১০ মাসেই ফাটল মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বীর নিবাসে’

জহিরুল ইসলাম খান, মাদারীপুর
১৩ জুন ২০১৮, ১২:৩৮আপডেট : ১৩ জুন ২০১৮, ২১:৪৯

নির্মাণের ১০ মাসেই ফাটল মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বীর নিবাস’ মাদারীপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত ৩১টি ‘বীর নিবাস’ ভবনের বেশ কয়েকটি হস্তান্তরের ১০ মাসের মাথায় বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে, বেঁকে গেছে দরজা-জানালা। ভবন নির্মাণে ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ার নিম্নমানের জিনিসপত্র ব্যবহার করেছে বলে মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ তুলেছেন। বিষয়টি জানানোর পরও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর এ বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে তারা জানিয়েছেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের ঝিকরহাটি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম সরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তৈরি একটি পাকা ভবন পেয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার বাড়িতে এই নির্মাণ কাজের সময় ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের তিনি নিম্নমানের কাজের ব্যাপারে বলেছিলেন। কিন্তু তারা এই ব্যাপারে গুরুত্ব দেননি। এক বছর পাড় হওয়ার আগেই তার ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। নিম্নমানের কাঠ দেয়ায় দরজা-জানালা বাঁকা হয়ে গেছে, যা লাগানো সম্ভব হয় না। নষ্ট হয়ে গেছে নলকূপটিও।
ঘটমাঝি ইউনিয়নের ঝিকরহাটি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম অভিযোগ করে বলেন, নির্মাণের সময় আমি ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ারকে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারে নিষেধ করি এবং এ ব্যাপারে প্রতিবাদ জানাই। তখন তারা কোনও ব্যবস্থা নেননি। এখন ঘরের প্রায় দরজাই বাঁকা, আটকানো যায় না। এমনভাবে ফাটল ধরেছে ঘরের মধ্যে থাকতে ভয় পাচ্ছি।
নির্মাণের ১০ মাসেই ফাটল মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বীর নিবাসে’ জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর এলজিইডি’র পক্ষ থেকে প্রতিটি ভবনের জন্য ১০ লাখ টাকার মূল্য নির্ধারিত হয়। ঠিকাদাররা দরপত্র পেতে কোনওটিতে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ মূল্য ছাড় দিয়ে নির্মাণ করায় খরচ হয়েছে ৭ লাখ টাকা। এরমধ্যে ৪ কক্ষের একটি একতলা ভবন, পাশে একটি টয়লেট, গবাদিপশু ও হাস-মুরগি রাখার দুটি ঘর এবং একটি নলকূপ রয়েছে। জেলায় ইতোমধ্যে নির্মিত ৩১টি বীর নিবাসের অনেকগুলোতেই কম-বেশি সমস্যা আছে।
কেন্দুয়া ইউনিয়নের কাউয়াকুড়ি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আক্কেল আলী বলেন, বেশ কয়েকবার উপজেলা এলজিইডি’র ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে গিয়েছি, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মাদারীপুর সদরে নির্মাণের সময় তদারকির দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলা এলজিইডি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভবন হস্তান্তরের পর এক বছরের মধ্যে বড় ধরনের কোনও সমস্যা হলে ঠিকাদার মেরামত করে দেবেন। মুক্তিযোদ্ধাদের কাজ করা খুবই স্পর্শকাতর। ক্ষতির তুলনায় তাদের অভিযোগ বেশি। তারপরও যেহেতু এই বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে, অভিযোগ উঠেছে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখছি।’
নির্মাণের ১০ মাসেই ফাটল মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বীর নিবাসে’ এদিকে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, ‘ইতোমধ্যেই মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন ভবনের কয়েকটিতে ফাটলের অভিযোগ পাওয়ায় বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ এলজিইডি’র দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সমস্যা হলে এ ব্যাপরে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ‘
উল্লেখ্য, মাদারীপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বীর নিবাস’ ভবন হস্তান্তরের দশ মাসের বেশি সময় পার হয়েছে। আইন অনুযায়ী, এক বছর পার হওয়ার পর ঠিকাদাররা জামানত বুঝে নেবেন। এরপর এসব ভবনের ব্যাপারে তাদের অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনও দায় থাকবে না।

/এআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম