গেল কয়েকদিনের ভাঙনে দৌলতদিয়া ঘাট সংলগ্ন সিদ্দিক কাজী ও ছাত্তার মেম্বার পাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে সরিয়ে নিতে হয়েছে ২০টিরও বেশি বসতঘর। ভাঙনের কবলে বন্ধ হয়ে গেছে ছয়টি ফেরিঘাটের মধ্যে একটি ঘাট। বাকিগুলোও রয়েছে হুমকির মুখে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন বাহেরচর গ্রামের ছাত্তার মেম্বার পাড়া এলাকার তারাবানু বেগম (৭০) বলেন, ২২ বছর আগে কুশিয়াহাটা থেকে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছি। পদ্মা নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন আমার বাড়ির কাছে এসে ঠেকেছে। কয়েকদিন ধরে পদ্মা নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। বড় বড় মাটির চাপ নদীতে চলে যাচ্ছে। রাতে ভয়ে ঘুমাতে পারিনা। স্বামীহারা মানুষ বেকার ছেলে নিয়ে বড় অসহায় হয়ে বেঁচে আছি। এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বার এখন পর্যন্ত কোনও খবর নেয়নি।
একই এলাকার খোদেজা বেগম, মোক্তার মন্ডল, হজরত আলী মন্ডল, আতর আলী বলেন, আমরা ৩-৪ বার ভাঙনের কবলে পড়ে অসহায় হয়ে পড়েছি। এবারও ভাঙন শুরু হওয়াতে খুব আতঙ্কে আছি। ভাঙন ঠেকাতে যে বালির বস্তা ফেলা হচ্ছে এতে ভাঙন ঠেকবে না। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি ভাঙন ঠেকাতে বালির বস্তার পরিমাণ বাড়িয়ে এর সঙ্গে পাথর ফেলা হোক এবং দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
স্থানীয় জমশের শেখ বলেন, গেল কয়েকদিনের ভাঙনে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন সিদ্দিক কাজী ও ছাত্তার মেম্বার পাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে ২০টিরও বেশি বসতঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা খুব অসহায় জীবনযাপন করছি। গত বছর ঘাট এলাকার অনেক অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এবারও ভাঙনের কবলে পড়ে ছয়টি ফেরিঘাটের মধ্যে ইতোমধ্যে দুই নম্বর ঘাটটি বন্ধ হয়ে গেছে। তীব্র স্রোতের কারণে ফেরিঘাটগুলো হুমকির মুখে রয়েছে।
ভাঙন প্রতিরোধে ঘাট এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ করে ভাঙ্গণ ঠেকাতে ব্যবস্থার কথা জানালেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার।
দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম মন্ডল জানান, ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি ফেরিঘাট, দুইটি স্কুল ও প্রায় এক হাজার পরিবারের বসবাস। তাই এখানে ভাঙন রোধে বেশি বেশি করে জিও ব্যাগ ফেলা প্রয়োজন। আর অসহায় দরিদ্র মানুষের মধ্যে সাহায্য সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার ভাঙন ঠেকাতে যে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম।
গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল সাদীদ জানান, বালির বস্তার পরিমাণ আরও বাড়ানো গেলে ঘাট রক্ষায় সুবিধা হবে। বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার যে কাজ চলছে, তা সুষ্ঠুভাবেই তদারকি করা হচ্ছে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার বলেন, ‘দৌলতদিয়া ঘাটে আমাদের দফতর থেকে প্রকৌশলীরা এসে দেখে গেছেন। ১৪ জুন থেকে ঘাটের এক কিলোমিটার এলাকায় জরুরি ভাঙন ঠেকাতে বালি ভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। প্রতিদিন ট্রলারে করে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে।’








