ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল ট্রাক স্ট্যান্ডের সামনে এক ট্রাক হেলপার নিহত হয়েছেন। হাইওয়ে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে রাস্তায় থেমে থাকা আরেকটি ট্রাকের সঙ্গে চাপা লেগে এই ঘটনা ঘটে। রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে।
নিহত ট্রাক হেলপারের নাম আলাউদ্দিন সোহান মিয়া। তিনি ফেনী জেলার দাগনভূইয়া থানার জগৎপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলোগেইট এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে শমিকরা রাস্তার ওপর গাড়ি এলোপাথাড়ি রেখে সড়ক অবরোধ করে। তারা পুলিশের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ সময় পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে মহাসড়কের রাস্তায় শৃঙ্খলার কাজে আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে যোগ দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী একটি ট্রাককে মহাসড়কের মদনপুর এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম কাজগপত্র চেক করার জন্য সিগন্যাল দেয়। কিন্তু ট্রাকের চালক গাড়িটি না থামিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে হাইওয়ে পুলিশ পেছন থেকে ধাওয়া করে। কাঁচপুর পয়েন্টে এসে একজন পুলিশ সদস্য ট্রাকে উঠে যায়। পরে পুলিশ সদস্য ট্রাকের হেলপারকে সিট থেকে উঠিয়ে দিয়ে ট্রাকের স্টিয়ারিং ধরে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ট্রাকের হেলপার ট্রাকের দরজা ধরে ঝুলে ছিল। ট্রাকের চালক ও পুলিশ সদস্যের ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ট্রাকটি কাঁচপুর সেতু পার হয়ে এসে শিমরাইল ট্রাক স্ট্যান্ডের সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ওয়েস্টেজ ভর্তি একটি ট্রাককে চাপা দেয়ে। এতে ঘটনাস্থলে ট্রাকে ঝুলে থাকা হেলপার নিহত হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুাপার (অপরাধ) মনিরুল ইসলাম জানান, প্রত্যদর্শী ও রাস্তায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের পুলিশ বোঝানোর চেষ্টা করছে। মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল কাউয়ুম সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের কোনও চেকিং পোস্ট সেখানে ছিল না। তারপরও কোনও প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, ওই পথ দিয়ে সার্জেন্ট মাহবুব রোগীবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সকে ঢাকা মেডিক্যালে পৌঁছে দিতে যান। তখন দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাক দেখে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানাকে অবহিত করেন।’
শিমরাইল ট্রাক স্ট্যান্ডের শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম মিঠু জানান, পুলিশ ট্রাক দেখলেই চাঁদার জন্য থামায়। কাগজপত্র ঠিক থাকলেও হাইওয়ে পুলিশকে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দেওয়ায় ট্রাকের স্টিয়ারিং ধরে পুলিশের টানাটানির কারণেই হেলপারের মৃত্যু হয়েছে। তিনি হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধ ও দোষী পুলিশের বিচার দাবি করেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিহত ট্রাক হেলপারের লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ লাশ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা লাশবাহী ভ্যানগাড়ির চাকার পাম্প ছেড়ে দেয়। উত্তেজিত শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। বিকাল ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে লাশ রাস্তায় রেখে মিছিল করছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আবদুস সাত্তার জানান, বিকাল সাড়ে ৪টায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।








