নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নাশকতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুসহ ৫৪ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার রাতে রুপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলামীন সরকার বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ওলামা দলের সভাপতি সামসুজ্জামান খান বেনুসহ চার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। রুপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মামলা দায়েরের বিষয়টি স্বীকার করেন।
মামলার এজাহার পুলিশ উল্লেখ্য করে, বুধবার বিকেলে উপজেলার তারাব পৌরসভার যাত্রামুড়া এলাকায় বড় ধরনের অরাজকতা ও নাশকতা উদ্দেশ্য বিএনপির নেতাকর্মীরা চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় রাতেই রূপগঞ্জ থানার এসআই আলামীন সরকার বাদী হয়ে বিএনপির কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, কেন্দ্রীয় ওলামা দলের সহ-সভাপতি শামসুজ্জামান খান বেনসহ ২৯ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২৫ জনসহ মোট ৫৪ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৭৮। এর আগে বুধবার বিকেলে পুলিশের হাতে আটক কেন্দ্রীয় ওলামা দলের সহ-সভাপতি সামসুজ্জামান খান বেনুসহ চরজনকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার জানান,‘হিটলার নাজি বাহিনী তৈরি করে মানুষরে ওপর যেমন দমন নির্যাতন চালিয়ে ছিল। ঠিক একই কায়দায় বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীকে নাজি বাহিনী বানিয়েছে। ওই বাহিনী দিয়ে সরকার বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা মামলা দিয়ে দমন পিড়ন ও নিযার্তন চালাচ্ছে।
তিনি বলেন,‘বুধবার তারাবো পৌরসভার যাত্রামুড়া এলাকায় বিএনপির অফিসে বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি ও চিকিৎসার দাবিতে জেলা ওলামা দল প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। ওই অনুষ্ঠানে আমিও উপস্থিত ছিলাম এবং একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে ইন্ট্রারভিউ দিচ্ছিলাম। এ সময় বিপুল সংখ্যাক পুলিশ এসে আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং জেলা ওলামা দলের সভাপতিসহ চারজনকে গ্রেফতার করে। পরে আমাকে পুলিশ এর একটি গাড়িতে তুলে দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। সেখানে কোনও ককটলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি।
তিনি আরও বলেন, ‘তারা বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এতো মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে যে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করায় এই সরকারের নাম গ্রীনিজ বুকে রেকর্ড হবে।’
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বুধবার বিকেলে যাত্রামুড়া এলাকায় বিএনপির লোকজন একত্রে জড়ো হয়ে বড় ধরনের নাশকতা ও অরাজকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্য কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনায়। এতে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় রাতেই রূপগঞ্জ থানায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ্য করে এবং অজ্ঞাত আরও ২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।








