চলতি বছরের ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা বিমান দুর্ঘটনায় ছেলে ফারুক হোসেন প্রিয়ক ও নাতনি প্রিয়ংময়ী তামাররা প্রেয়সীকে হারান গাজীপুরের ফিরোজা বেগম। ছেলেকে হারানোর শোক এখনও কাটেনি। ছেলের শোক কিছুটা হলেও ভুলে ছিলেন তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র দেখে। এরমধ্যে ছিল ছেলের ব্যবহৃত অতি প্রিয় প্রাইভেটকার। ছেলের সেই স্মৃতিও আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে গাড়িটি পুড়ে যায়। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পোড়াবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রিয়কের মা ফিরোজা বেগম বলেন, ‘নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় সন্তান হারালাম, নাতনি হারালাম। স্বজন হারিয়ে এখন আমি একা। এবার সন্তানের স্মৃতিচিহ্ন গাড়িটিও পুড়ে গেল। সবই এখন আমার পুড়ে যাওয়া স্মৃতি। পুড়ে যাওয়া সব স্মৃতি নিয়েই আমি বেঁচে আছি।’
বিমান দুর্ঘটনায় প্রিয়ক ও তার একমাত্র কন্যা প্রিয়ংময়ী নিহত হন। তবে এ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যান প্রিয়কের মামাতো ভাই মেহেদী হাসান মাসুম।
প্রিয়কের মা বলেন, ‘গাড়িটি আমার ছেলের খুব শখের ছিল। নেপাল থেকে ফিরে এসে গাড়ির কাগজপত্রসহ সবকিছু ঠিকঠাক করার কথা ছিল। তা আর হলো না। গাড়িটি অনেক দিন বাড়িতেই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েছিল। সেজন্য গাড়িতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। গাড়ির বৈদ্যুতিক এবং গ্যাস সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে শনিবার সকাল ৬টার দিকে মেহেদী মেরামতের জন্য গাড়িটি নিয়ে ঢাকায় রওনা হয়। পোড়াবাড়ী এলাকায় পাম্প থেকে পেট্রোল নিয়ে রাস্তায় ওঠার পরই গাড়ির পেছনের দিকে আগুন ধরে যায়। আগুন দেখে মাসুম গাড়ি থেকে দ্রুত নেমে যায়।’
জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাকির হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কিন্তু ততক্ষণে গাড়িটি পুড়ে যায়। এতে হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি।








