নরসিংদীতে ৭ মাসে ৩৮ শিশু ধর্ষণের শিকার, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

আসাদুজ্জামান রিপন, নরসিংদী
০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৫৪আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৫৪

নরসিংদী

নরসিংদীতে আশঙ্কাজনক হারে শিশু ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে। এমন কী ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হচ্ছে শিশুরা। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে নিজ ঘরেও যেন নিরাপদ নয় শিশুরা। এতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে নির্যাতনের শিকার শিশুরা, উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন অভিভাবকরা। এসব ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসি সেল (ওসিসি) এর তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত (৭ মাসে) জেলায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫৯টি। এরমধ্যে ২১ জন নারী ও ৩৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এসব নারী ও শিশুদের মানসিক পরিসেবা দিয়েছে ওসিসি।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য মতে গত ২৪ জুলাই জেলার পলাশ উপজেলার ধনাইর চর গ্রামে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা করা হয়। এর আগে ১৪ জুলাই একই উপজেলার টান চলনা গ্রামে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ধর্ষণের শিকার হয় ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রী। এছাড়া জুলাই মাসের শুরুর দিকে বাড়ির পাশে খেলা করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আরও এক শিশু। একমাসে শুধু পলাশ উপজেলায়ই ঘটে তিন শিশু ধর্ষণের ঘটনা। এছাড়া জেলার আরও ৫ উপজেলায়ও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু ধর্ষণের ও হত্যার ঘটনা।

ছয়টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের হলেও, অনেক ঘটনাই থেকে যাচ্ছে অগোচরে। সামাজিক মর্যাদাহানির আশঙ্কায় ভুক্তভোগীর অনীহা ও সামাজিক মীমাংসার নামে অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের না হওয়ায় আইনের আওতায় আসছে না অপরাধীরা। এ কারণে উঠে আসছে না শিশু নির্যাতনের প্রকৃত পরিসংখ্যান।

জেলাজুড়ে নিজ ঘর থেকে খেলার মাঠ, রাস্তাঘাট কোথাও যেন নিরাপদ নেই শিশুরা।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মাদারস ডেভেলেপমেন্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ফাহিমা খানম বলেন, প্রায় প্রতিটি শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দেখা গেছে নির্যাতনকারীরা প্রভাবশালী পরিবারের। পক্ষান্তরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে দরিদ্র ও অসচেতন পরিবারের শিশুরা। সেক্ষেত্রে তারা আইনের আশ্রয় নেওয়ার ব্যাপারে খুব একটা সচেতন নন। কোনও ভাবেই মামলা দায়ের হলেও এসব পরিবার থাকেন চাপের মুখে। অনেকে ভয়ে মামলা না করেই আপস করে ফেলেন। 

ব্র্যাক নরসিংদী শাখার মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচির কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ বলেন, ‘সাম্প্রতি শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক। ইন্টারনেটের যথেচ্ছ ব্যবহার ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে জেলাজুড়ে শিশু ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। তাছাড়া পারিবারিক অসচেতনতা ও নিরাপত্তাহীনতাও রয়েছে। এসব ঘটনায় অনেকে সামাজিকভাবে নিগৃহিত হওয়ার ভয়ে আইনের আশ্রয় নিতে অনিহা প্রকাশ করেন।

নরসিংদীর পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন,‘প্রতিটি ধর্ষণের মামলায় পুলিশ আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসছে এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগপত্র দেওয়া হচ্ছে। আশা করি আসামিরা উপযুক্ত শাস্তি পাবে। তবে শিশু ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়া উদ্বেগজনক। শিশু নির্যাতন রোধে পরিবার ও সমাজে শিক্ষা ও সচেতনতা বাড়াতে হবে।

 

/জেবি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
আদ দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ নাকি ত্রুটি সংশোধন, কী ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার
আদ দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ নাকি ত্রুটি সংশোধন, কী ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার
দায়িত্ব ছাড়া প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়া প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেফতার ২
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেফতার ২
কর্মকর্তাদের কলম বিরতির নির্দেশনা নেই: ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি
কর্মকর্তাদের কলম বিরতির নির্দেশনা নেই: ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী