গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় এক ডিলারের বিরুদ্ধে হত-দরিদ্রের ১০ টাকার চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের নৈয়ারবাড়ী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই ডিলারের লাইসেন্স বাতিল ও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোটালীপাড়া উপজেলা নির্ববাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নে হত-দরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে ৬৬০ জন কার্ডধারীর নামে ৩০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই ইউনিয়নের ডিলার কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক রুহুল আমিন হাওলাদারের ভাই অলিউর রহমান হাওলাদার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছ থেকে ডেলিভারি অর্ডার নিয়ে ৩০ কেজি করে ৬৬০ বস্তা চাল উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে বুঝে নেয়।
গত রবিবার ওই ডিলারের ভাই অলিউর রহমান হাওলাদার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের নৈয়ারবাড়ী বাজারে তার নিজস্ব গুদাম থেকে হত-দরিদ্রদের মাঝে ৩০০ টাকা নিয়ে ৩০ কেজির ১ বস্তা চাল বিতরণের কাজ শুরু করেন। হত-দরিদ্র কার্ডধারীরা ৩০ কেজির চালের বস্তা হাতে পেয়ে বস্তার মুখ খোলা দেখতে পায়। এ সময় বিতরণকৃত প্রতিটি চালের বস্তা আলাদাভাবে ওজন দিয়ে ৩০ কেজির পরিবর্তে ২৩ থেকে ২৬ কেজি করে চাল দেখতে পায়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে জনতার মাঝে হট্টগোল শুরু হলে ওই ইউনিয়নের ডিলার রুহুল আমিন হাওলাদারের ভাই অলিউর রহমান হাওলাদার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের পীড়ারবাড়ী গ্রামের হতদরিদ্র কার্ডধারী তামিজ বালা, আরতি বৈদ্য, শান্ত বিশ্বাস, লখণ্ডা গ্রামের ফুলমালা মল্লিক, লক্ষ্মী বাড়ৈ জানান, ৩০ কেজি চালের বস্তার মুখ খোলা পেয়ে তারা মাপ দিয়ে দেখে তাদের বিভিন্ন বস্তায় ২৪ থেকে ২৬ কেজি করে চাল আছে।
সাদুল্লাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ভিম চন্দ্র বাড়ৈ ওই ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ।
এ ঘটনায় কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রবিবার বিকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ডিলারের নিজস্ব খাদ্য গুদামে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে ওই ডিলার রুহুল আমিন হাওলাদার ও তার ভাই অলিউর রহমান হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক শাহাবুদ্দিন আকন্দ জানান, ডিলারের চাল আত্মসাতের ঘটনায় তার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কোটালীপাড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেছি। সত্যতা নিশ্চিত হয়ে ওই ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।








