জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেছেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একটি পক্ষ। রবিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল তিনটায় গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের ডিন কার্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ এর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ১৯৭৩’ এর অধ্যাদেশ লঙ্ঘন, উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করা, জাকসু ও মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন পর্ষদে নির্বাচন না দেওয়া, ডিন ও প্রভোস্ট নিয়োগে অনিয়ম, শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচার না করা, শিক্ষকদের সঙ্গে শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণসহ ১৮টি অভিযোগ তুলে ধরেছেন তারা।
উপাচার্য হিসেবে ফারজানা ইসলামের পুনর্নিয়োগকে কেন্দ্র করে বছরের শুরুতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন দেখা দেয়। উপাচার্য ফারজানা ইসলাম এবং সাবেক উপাচার্য শরীফ এনামুল কবির এই দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়েন শিক্ষকরা। গত কয়েকমাস ধরে বিভিন্ন ইস্যুতে দু’পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলমান রয়েছে। ঘটেছিল হাতাহাতির ঘটনাও। শরীফ এনামুল কবিরের অনুসারী শিক্ষকরা পৃথক পৃথক অভিযোগ ও দাবিতে কর্মসূচি পালন করে আসলেও এবার উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শরীফ এনামুল কবিরের অনুসারী শিক্ষকদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘উপাচার্য ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থপরিপন্থী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নষ্ট হচ্ছে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ। উপাচার্যের অধ্যাদেশ বিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে শিক্ষকরা লাঞ্ছিত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি ফারজানা ইসলাম উপাচার্য পদে বহাল থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন, সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার, সহ-সভাপতি অধ্যাপক কৌশিক সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর কবিরসহ অনেকে।








