নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নিউ পপুলার জেনারেল হাসপাতাল নামের একটি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় নবজাতক শিশু ও মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা ও এলাকাবাসী হাসপাতালটি ভাঙচুর করেছে। পরে পুলিশ হাসপাতালের মালিকসহ পাঁচ জনকে আটক করে। শনিবার (২৯ সেপ্টম্বর) সকালে সদর উপজেলার পাগলা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন, ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের।
শিল্পী বেগম নামে নিহত ওই গৃহবধূর স্বামী আলমগীর হোসেন জানান, ফতুল্লা স্টেডিয়াম এলাকায় তাদের বাড়ি। তার স্ত্রী শিল্পী বেগম গর্ভবতী হওয়ার পর থেকে গাইনি ডাক্তার তামান্না বেগমের কাছে চিকিৎসা নিয়ে আসছে। স্ত্রীকে বৃহস্পতিবার ডাক্তার তামান্না আক্তারের অধীনে নিউ পপুলার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান তিনি। শুক্রবার রাতে স্ত্রীকে সিজার করা হলে পাঁচ মাসের নবজাতক শিশুসহ তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বামীর অভিযোগ– একজন ডাক্তার তার স্ত্রী ও নবজাতক শিশুকে মৃত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় যাওয়ার পথে মা ও শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বুঝতে পেরে পুনরায় ওই হাসপাতালে নিয়ে যান বলেও জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকালে এ ঘটনার খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা ও এলাকাবাসী হাসপাতালটি ভাঙচুর করেন। এসময় তারা হাসপাতালটি বন্ধ ঘোষণাসহ অভিযুক্ত চিকিৎসকের শাস্তি দাবি করেন। খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাক্তার মজিবুর রহমানসহ পাঁচ জনকে আটক করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে এলাকাবাসীর দাবি– এর আগেও এই হাসপাতালে বেশ কয়েকবার এভাবে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, হাসপাতালটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পরবর্তীতে বাদীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।








