নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ঢাকার ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেএমবির সামরিক শাখার এক নারীসহ তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ বিপুল পরিমাণ জঙ্গিবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার রাতে সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মাদানীনগর ও ঢাকার ডেমরা থানার পশ্চিম হাজীনগর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের আদমজীনগরে র্যাব-১১ সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক রাসেল আহম্মেদ কবীর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃতরা হলো বরিশালের কাউনিয়া এলাকার রেজাউল করিম, বরিশালের বাকেরগঞ্জের জহিরুল ইসলাম পলাশ ও চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জের শাহনাজ আক্তার সাদিকা। এদের মধ্যে রেজাউল করিম ও পলাশকে মাদানীনগর এবং সাদিকাকে ডেমরা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব-১১ অধিনায়ক রাসেল আহমেদ কবীর আরও জানান, ‘গ্রেফতারকৃতরা নাশকতামূলক কার্যক্রম চালাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী গোপন বৈঠকে মিলিত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে- গোপন এ সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।’
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে, সাদিকা জেএমবির নারী শাখার ঢাকা দক্ষিণ অঞ্চলের সমন্বয়কারী, রেজাউল করিম সামরিক শাখার সদস্য ও জহিরুল ইসলাম সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শাহনাজ আক্তার ওরফে সাদিকা ওরফে শাহানা (২৫) ২০০৯ সালে ঢাকার দক্ষিণখানের একটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং ২০১০ সালে গাজীপুর টঙ্গীর একটি মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করে। ২০১৩ সালে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ফার্মেসি বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত পড়াশুনা করে। ২০১৫ সালে ‘আননিসা কালেকশন’ নামে একটি অনলাইনভিত্তিক বোরকার ব্যবসায় সঙ্গে জড়িত হয়। ২০০৪ সালে গ্রেফতার জেএমবি সদস্য আকলিমা আক্তারের মাধ্যমে সে জেএমবির নারী শাখায় যোগদান করে।
মো. রেজাউল করিম (২৮) ২০০৭ সালে বরিশালের একটি স্থানীয় স্কুল থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করে অটোরিকশা চালানো শুরু করে। ২০১৪ সালে ফেসবুক ও ইউটিউবে বিভিন্ন উগ্রবাদী বয়ান দেখে সে আকৃষ্ট হয়। পরে বরিশালের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত বুলবুলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। বুলবুল তাকে বিভিন্ন জিহাদি লিফলেট ও বই দিয়ে জেএমবিতে যোগদান করতে বললে সে সম্মত হয়। এরপর সে বরিশালে বিভিন্ন জায়গায় জেএমবির গোপন হালাকায় বুলবুলের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে। একপর্যায়ে জেএমবির দাওয়াতি কার্যক্রম চালানোর কৌশল রপ্ত করে।
মো. জহিরুল ইসলাম ওরফে পলাশ (২৭) বরিশালের স্থানীয় একটি স্কুল ও কলেজ থেকে যথাক্রমে ২০০৮ ও ২০১০ সালে এএসসি ও এইচএসসি পাস করে ঢাকার একটি স্বনামধন্য কলেজ থেকে বিবিএ সম্পন্ন করে। সে ঢাকায় বিবিএ পড়াকালীন অধিকাংশ সময় বরিশালে অবস্থান করত। ২০১৬ সালে বরিশালের একটি সালাফি মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়ে বুলবুল হাসান ও রেজাউল করিমের সঙ্গে জহিরুল ইসলাম ওরফে পলাশের পরিচয় হয়। এরপর বুলবুল হাসান পলাশকে ইমান-আকিদার দাওয়াত দেয়। ধীরে ধীরে বুলবুলের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় পলাশ হানাফি মাজাহাব থেকে সালাফিতে দীক্ষিত হয় এবং একপর্যায়ে পলাশ জেএমবিতে যোগদান করে। জেএমবিতে যোগদানের পর থেকে পলাশ দাওয়াতি কাজ করে আসছে।








