টঙ্গীর বিসিক শিল্প এলাকায় ন্যাশনাল ফ্যান কারখানায় হিট চেম্বারে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে তদন্ত কমিটি। গাজীপুর জেলা প্রশাসন গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এছাড়া আগামী শুক্রবার পর্যন্ত কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত আরও এক শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা গেছে। তার নাম লাল চাঁন মিয়া। তার বাড়ি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গীর পাগাড়ের ঝিনু মার্কেট এলাকায়। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩।
তদন্ত কমিটির প্রধান গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মশিউর রহমানের নেতৃত্বে তদন্ত দলটি বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা বিস্ফোরণস্থলসহ কারখানার বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে দেখেন ও শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় নিহত আজিজুল হকের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে একটি দুর্ঘটনাজনিত মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই কারখানায় মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ ৭-৮জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) আক্তারুজ্জামান জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী বিসিক এলাকার ন্যাশনাল ফ্যান কারখানা ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্থাপিত হিট চেম্বারে মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। পরে আগুন ধরে যায়। আগুন মুহুর্তেই দুটি ইউনিটে ছড়িয়ে পড়ে। এঘটনায় কারখানার অন্তত ৩৫ জন শ্রমিক দগ্ধ ও আহত হন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের মধ্যে আজিজুল হক ও সামসুল হক নামের দুই জনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহতদের মধ্যে দগ্ধ ৮ জনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। সেখান চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে আরও একজন মারা যান। হিট চেম্বারটি মূলত তৈরি ফ্যানের যন্ত্রাংশে দেওয়া কাঁচা রঙ পাকা করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
টঙ্গী পূর্ব থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন জানান, সুষ্ঠু তদন্তের লক্ষ্যে কারখানায় স্থাপন করা সিসি টিভি ফুটেজের ক্যামেরা ও আলামত সমূহ জব্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিস্ফোরণের আগে ও পরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর তথ্য ঠিকভাবে বের করতে সিসি টিভি জব্ধ করা হয়েছে। ফুটেজ দেখে ঠিক তথ্য বের করা যাবে।’
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মশিউর রহমান বলেন, ‘দেশে বয়লার পরিদর্শনের ব্যবস্থা থাকলেও লোকবল খুব কম। পুরো বাংলাদেশে মাত্র তিন জন বয়লার পরিদর্শক রয়েছেন। সারাদেশে প্রতিদিন একজন বয়লার পরির্দশক যদি পরিদর্শন করেন তবে একশ কারখানা পরিদর্শন করা যাবে। তবে, একটি কারখানার বয়লার পরিদর্শনে দুই দিন সময় লাগে। হিট চেম্বার পরিদর্শনে পরিদর্শকের কোনও পদও নেই। বিস্ফোরক অধিদফতরের প্রধানের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি— তাদেরও এটা আওতাভুক্ত নয়। এটা পরিদর্শনের জন্য কোনও অথরিটিও নেই। হিট চেম্বার কারখানা কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তৈরি। এটা কাঠামোগত বা কারখানার লে-আউটের মধ্যেও নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার ও আহতদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।’








