গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অত্যাধুনিক হাই-টেক পার্ক রেলস্টেশন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এ মাসেরই কোনও এক সময় স্টেশনটির উদ্বোধন করা হবে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কেউ স্টেশনটির উদ্বোধন করতে পারেন। রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত দ্রুততর করতে স্টেশনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। হাই-টেক পার্কে যাওয়া আসার জন্য যুক্ত করা হবে বিশেষায়িত ট্রেন। হাই-টেক পার্কে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের যাওয়া-আসা ও সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রে ট্রেনটি সহায়ক হবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, হাই-টেক পার্কের সামনে ৪৮ কোটি ৫৯ লাখ ব্যয়ে স্টেশনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। হাই-টেক পার্ক রেলস্টেশনটিতে আধুনিক রেললাইন, স্টেশন বিল্ডিং, আধুনিক সিগনালিং সিস্টেম নির্মাণ করা হয়েছে।
রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (পাকশী) নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, রেলওয়ের পক্ষ থেকে সকল প্রকার প্রস্তুতি শতভাগ সম্পন্ন করা হয়েছে। ব্যবহার শুরু হলে এ স্টেশন থেকে হাই-টেক পার্ক সংশ্লিষ্ট লোকজন ছাড়াও সাধারণ যাত্রীরা যাতায়াত করতে পারবেন। তবে সব ট্রেনের ট্রেনের স্টপেজ থাকবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়।
হাই-টেক পার্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রকৌশলী ওবায়েদ হোসেন বলেছেন, হাই-টেক সিটিতে দ্রুততম সময়ে যাতায়াতের জন্যই মূলত কালিয়াকৈর হাই-টেক রেলস্টেশনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সুস্থ মেজাজে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে যানজটমুক্তভাবে মানুষ এ স্টেশনের মাধ্যমে হাই-টেক পার্কে যাতায়াত করতে পারবে। হাই-টেকের মালামাল পরিবহনের জন্য থাকবে মালবাহী ট্রেন।
হাই-টেক সিটি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের গোয়ালবাথান এলাকার ২৩২ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে হাই-টেক পার্ক। এ পার্কের মধ্য দিয়ে গেছে দেশের উত্তরাঞ্চল অভিমুখী রেলপথ। ইতোমধ্যে পার্কের প্রশাসনিক ভবন ও রাস্তাঘাটসহ বেশ কয়েকটি ভবনের অবকাঠামোগত কাজ হয়েছে এবং প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি স্থাপন ও অন্যান্য কাজ চলমান।
দেশের সর্ববৃহৎ এ হাই-টেক পার্ককে পাঁচটি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। ১ নম্বর ব্লকে প্রশাসনিক ভবন, হাসপাতাল, কাস্টম হাউজ, স্কুল-কলেজ, ব্যাংক, শপিং মল রয়েছে। ২ নম্বর ব্লকে আছে আবাসিক এলাকা। ৩ নম্বরে শিল্প এলাকা, কনভেনশন সেন্টার ও হোটেল। ৪ নম্বর ব্লকে স্থান পেয়েছে শিল্প এলাকা, হেলিপ্যাড। আর ৫ নম্বর ব্লক বরাদ্দ শিল্প এলাকা ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের জন্য।
আগামী ১০ বছরে এ হাই-টেক পার্কে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জনপ্রশাসনে কাজের দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সেবার মান বাড়ানোর জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে। আর সেক্ষেত্রে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।








