নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে রবিবার ভোরে চার যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। লাশ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে এক রাইন্ড গুলি ও দুটি বিদেশি পিস্তলসহ একটি মাইক্রোবাস জব্দ করেছে পুলিশ। রবিবার ভোরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাতগ্রাম ইউনিয়নের পাঁচরুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়কের দু’পাশ থেকে ওই চারজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে রামপুরার ওয়াপদা রোড এলাকার থেকে আসা রেশমা বেগম জানান, কালো গেঞ্জি ও জিন্স প্যান্ট পরা লাশটি তার স্বামী লুৎফর রহমান মোল্লার। লাশ শনাক্ত করে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তিনি জানান, তার স্বামী পেশায় মাইক্রোবাস চালক। গত শুক্রবার বিকালে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর থেকে তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে রামপুরা থানায় একটি জিডি করেছেন। সকালে বিভিন্ন টেলিভিশনে খবর দেখে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এসে লাশ শনাক্ত করেন।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এম এ হক জানান, রফিক আকন্দ নামে এক ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে জব্দ গাড়ির মালিক।
গাড়ির মালিক রফিক আকন্দ জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় চালক লুৎফর রহমান মোল্লা একটি ট্রিপ পেয়ে রাজধানীর রামপুরা থেকে গাড়ি নিয়ে যায়। কিন্তু কোথায় ট্রিপ নিয়ে যাবেন তা জানাননি। রাতে গাড়ি নিয়ে না ফেরায় তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেন। এক মাস আগে লুৎফর রহমান মোল্লা তার গাড়িটি চালানো শুরু করে। গতকাল পুলিশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে গাড়ি জব্দের বিষয়টি তাকে জানানো হয়।
ময়নাতদন্ত শেষে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, নিহত চারজনের মাথায় আঘাত ও গুলির চিহ্ন রয়েছে। তাদের পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনজনের মাথায় শর্টগান বা বন্দুকের গুলি পাওয়া গেছে। প্রত্যেকের মাথায় পাওয়া গুলির ধরন একই রকমের। চারজনের মধ্যে তিনজনের মাথায় একটি করে গুলি পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনও একসময় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে এলাকাবাসী জানান, ভোরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাতগ্রাম ইউনিয়নের পাঁচরুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়কের দুই পাশে দুটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। নিহত চারজনের মাথাই থেতলানো ছিল। ঘটনাস্থল থেকে এক রাউন্ড গুলি, দুটি পিস্তল ও একটি সিলভার রঙের মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো চ-১৩-০৫০১) জব্দ করা হয়েছে।
এলাকার বাসিন্দা রায়হান জানান, তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে উঠে চারটি গুলির শব্দ শুনতে পান। রাতে বাসা থেকে বের হতে না পারলেও ভোরে বের হয়ে দেখেন মহাসড়কের দুই পাশে দুটি করে চারটি মৃতদেহ পড়ে আছে। সেখানে একটি মাইক্রোবাসও ছিল। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। দুটি লাশের নিচ থেকে একটি করে পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নিহত চারজনের মাথায় ক্ষতের চিহ্ন পেয়েছি। এছাড়া শরীরে আর কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। প্রাথমিক ধারণা, যেহেতু ঘটনাস্থল থেকে আমরা পিস্তল ও গুলি পেয়েছি, দু’দল ডাকাত ও সন্ত্রাসীর কোন্দলের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। গুলির বিষয় ও মাথায় ক্ষতের বিষয়টি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত করে বলা যাবে তারা গুলিতে নিহত হয়েছে নাকি অন্য কোনও কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।








