মাত্র দুই ফিট জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে লাঠির আঘাতে প্রাণ গেলো হালিম মিয়া (৪৫) নামে এক কৃষকের। মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের ভাতণ্ড গ্রামে বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হালিম মিয়া ওই গ্রামের আনছার আলী শেখের ছেলে।
পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ চারজনকে আটক করেছে। ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানী পয়লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হারুনার রশিদ নিহতের পরিবারের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, নিহতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ভাতণ্ড গ্রামের প্রতিবেশী মৃত মিনহাজের ছেলে আব্দুর রশিদের বিরোধ চলছিল। ওই এলাকার জনৈক চন্দনের কাছ থেকে হালিম মিয়া ও রশিদ ৫৫ শতাংশ জমি কিনেন। তারা ওই জমি অর্ধেক করে ভাগ করে নেয়। এরমধ্যে মাত্র দুই ফিট জমির আইল রয়েছে। আর সেখানে একটি ইরি-বোরো আবাদের মেশিন রয়েছে। ওই আইল নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এসব নিয়ে স্থানীয়ভাবে মধ্যস্থতার জন্য তার কাছে এলে তিনি আগামী মঙ্গলবার সালিশের দিন ঠিক করেন। কিন্তু এরই মধ্যে বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই জমির আড়াই ফুট আইল ঘেঁষে ড্রেন কাটা নিয়ে রশিদ মিয়া তার চার সহযোগীকে নিয়ে আব্দুল হালিম মিয়ার ওপর একপর্যায়ে হামলা করে। এতে হালিম মিয়ার লাঠির আঘাতে অচেন হয়ে পড়লে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়।
নিহতের স্ত্রী শাহানাজ বেগম দাবি করেছেন, রশিদ, জয়নাল, হাফিজ ও হাসনা তার স্বামীকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
ঘিওর হাসপাতালের চিকিৎসক বিপুল বালোর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, হাসপাতালে আনার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত হালিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এদিকে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আব্দুর রশিদ, জয়নাল, হাফিজ ও হাসনাকে আটক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিহতের স্বজনরা থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।








