নরসিংদীর পৌর মেয়র লোকমান হোসেন হত্যা মামলার আসামি মোবারক হোসেন মোবাকে অস্ত্র মামলায় পুনরায় ২ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (২ নভেম্বর) দুপুরে জেলা জজ আদালতের বিচারক অনামিকা চৌধুরীর আদালত তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রুপন কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রুপন কুমার সরকার বাদী হয়ে মোবারকের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই দিনই তাকে আদালতে এনে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা আক্তার ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে অস্ত্র আইনের মামলায় মোবারক হোসেনকে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর ও লোকমান হোসেন হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বেশকিছু তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তের স্বার্থে আপাতত তা প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। আরও তথ্যের জন্য শুক্রবার দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অনামিকা চৌধুরীর আদালতে হাজির করে পুনরায় ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। এরই প্রেক্ষিতে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মেয়র লোকমান হোসেন হত্যা মামলার অভিযোগপত্রের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মোবারক হোসেন ওরফে মোবা লোকমান হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ আগে থেকে মালয়েশিয়ায় পলাতক ছিলেন। লোকমান হত্যা মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী ওই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন মোবারক। গত ২৫ অক্টোবর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে পলাতক অবস্থায় ছিল। নরসিংদীতে তার মালিকানাধীন একটি জমি বিক্রি করতেই দেশে এসে আত্মগোপনে ছিল মোবারক। নজরদারি ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রুপন কুমার সরকার ও জাকারিয়া আলমের নেতৃত্বে ৩০ অক্টোবর রাতে অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বনানীর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মোবারক হোসেনকে গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্য মতে প্রথমে ঢাকায় এবং পরে নরসিংদীতে তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে শহরের পশ্চিম ব্রাহ্মন্দী মহল্লায় তার শ্বশুরের বাসায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় ওই বাসা থেকে ৭ রাউন্ড গুলি ও দুইটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১ নভেম্বর পৌর মেয়র লোকমান হোসেনকে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ হত্যার ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই বর্তমান মেয়র কামরুজ্জামান বাদী হয়ে ১৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।








